তৃণমূলকে চটিয়ে এবার সিঙ্গুরে রাজ্যপাল সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে যান জগদীপ ধনখড় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন ধনখড় আবারও সিঙ্গুরে আসার কথা জানান রাজ্যপাল  


জেলা সফরে আগেই বেরিয়েছেন। এবার আচমকাই সিঙ্গুরে হাজির হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সোমবার শান্তিনিকেতন থেকে ফেরার পথে সিঙ্গুরে যান রাজ্যপাল। সরাসরি চলে যান সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে। সেখানে এসে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন সিঙ্গুরের বেশ কয়েকজন কৃষক। তাঁরা অবশ্য বিজেপি সমর্থক বলেই জানা গিয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোমবার বিকেলবেসা সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে পৌঁছন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আগে থেকেই ছুটিতে থাকায় সোমবার অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন সিঙ্গুরের বিডিও পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়। যুগ্ম বিডিও-ও মিটিংয়ের জন্য অফিসের বাইরে ছিলেন। বিডিও অফিসে ঢুকেই রাজ্যপাল সেখানকার কর্মীদের কাছে জানতে চান, অফিস সামলানোর দায়িত্বে কে রয়েছেন? যদিও রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলার মতো কোনও আধিকারিক সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন না। ফলে, বেশ কিছুটা রুষ্টই হন জগদীপ ধনখড়। 

এরই মধ্যে রাজ্যপাল এসেছেন খবর পেয়ে সেখানে কয়েকজন কৃষককে নিয়ে হাজির হন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার কৃষকদের ন্যানো প্রকল্রের জন্য অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দিলেও তা আর চাষযোগ্য নেই। ফলে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে কৃষকদের। সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর জন্যও আবেদন জানান কৃষকরা। টাটাদের জন্য যে জমি অধিগৃহীত হয়েছিল, তা দেখতে যাওয়ার জন্য রাজ্যপালকে অনুরোধ করেন ওই কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, সিঙ্গুরে তাঁরা কৃষি এবং শিল্প দুইই চান।

অভিযোগ পেয়ে রাজ্যপাল বলেন, তিনি পরবর্তী সময়ে সরকারি সফরেই সিঙ্গুরে আসবেন। সিঙ্গুরের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী, তাও জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান ধনখড়। আমি ভেবেছিলাম আজ এখানে কেউ থাকবেন যিনি আমাকে সিঙ্গুরের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী, তা আমাকে সামনে থেকে বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। যতদিন না আমি গোটা পরিস্থিতিটা ভাল করে বুঝতে পারছি, কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া ঠিক হবে না। 

আরও পড়ুন- বুলবুলে ব্যতিক্রমী রাজ্যপাল, ভরসা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রীর উপর

আরও পড়ুন- সংবিধান মেনেই কাজ করছেন, সরাসরি মমতাকে কড়া বার্তা ধনখড়ের

বিডিও অফিসে ঢোকা এবং বেরনোর সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের নিরাপত্তারক্ষী উত্তম দাসের বাড়ি সিঙ্গুরের মধুবাটিতে। তাঁর মেয়েকেও কোলে তুলে নেন জগদীপ ধনখড়। ভবিষ্যতে ফের সিঙ্গুরে এসে আরও সময় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ শোনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ধনখড়। 

স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, দলীয় কোনও রং দেখে নয়। সাধারণ সিঙ্গুরবাসী হিসেবেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। 

রাজ্যপালের এই ঝটিতি সিঙ্গুর সফরে যখেষ্টই ক্ষুদ্ধা তৃণমূল। বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'রাজ্য শাসন করার জন্য তো নির্বাচিত সরকার রয়েছে। কিন্তু রাজ্যপাল হিসেবে উনি যা করছেন, তা ওঁকে মানায় না।'