রাজ্যের বাড়তে থাকা রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ করলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। হিংসা বন্ধে রাজ্যের চার প্রধান দলকে বৈঠকে ডাকলেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার বিকেল চারটের সময় রাজ ভবনে রাজ্যের প্রধান চার রাজনৈতিক দলকে বৈঠকে ডেকেছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। ইতিমধ্যেই চার দলেক চিঠি দিয়ে বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছেন রাজ্যপাল। তবে এই বৈঠকে প্রশাসনিক কোনও কর্তা থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

ভোটের পর থেকেই অশান্ত হয়ে রয়েছে রাজ্য। ভাটপাড়া, জগদ্দল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সন্দেশখালির ঘটনা, রাজনৈতিক হিংসার জেরে একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। সেখানেও রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দেন তিনি। এর পরেই রাজ্যপালের তরফে কোনও কড়া পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল।

যদিও রাজ্যপালের ভূমিকায় প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শাসক দল। যদিও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানিয়েছেন, তৃণমূল তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাবে। 

অভিষেক অবশ্য রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "বাংলায় যদি ৩৫৬ ধারা জারি করার কথা বলা হয়, তাহলে তার আগে উত্তর প্রদেশে কেন ৩৫৬ ধারা জারি করা হবে না?"  তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, গায়ের জোরে বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারি করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, "রাজ্যপালের পদকে আমরা সম্মান করি। ওই পদে যিনি থাকবেন, তাঁর থেকে নিরপেক্ষ পদক্ষেপই আমরা আশা করব। তিনি যথাযথ জায়গায় রাজ্যের সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন, সেটাই প্রত্যাশিত।"