- Home
- West Bengal
- "আমার স্বামী সরকারি চাকরি করেন, আমি কি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাব?" প্রশ্নের উত্তর দিল নবান্ন
"আমার স্বামী সরকারি চাকরি করেন, আমি কি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাব?" প্রশ্নের উত্তর দিল নবান্ন
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে উৎসাহের শেষ নেই। তবে স্বামী সরকারি চাকরি করলে স্ত্রী কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা পাবেন? নবান্নের নতুন নোটিফিকেশন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্তাবলী এবং কারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বাংলার মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে ১ কোটি ৯ লক্ষের বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৩,০০০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তবে অনেক মহিলার মনে একটিই বড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে—"আমার স্বামী যদি সরকারি চাকরি করেন, তবে কি আমি এই প্রকল্পের টাকা পাব?"। এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বেশ দোটানায় রয়েছেন। ফলে ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিয়ে গিয়েও পিছিয়ে আসছেন অনেক মহিলা। নবান্ন কী বলছে?
সরকারি নির্দেশিকায় কী বলা আছে? ১৯ মে ২০২৬ তারিখের সরকারি নোটিফিকেশন (Notification No. 2411-WCD/O/AB-4/2026) অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু কড়া বর্জনীয় তালিকা (Exclusion Criteria) তৈরি করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো পরিবারের প্রধান বা স্বামী নিয়মিত সরকারি কর্মচারী হন, তবে সেই পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
কারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন? নবান্নের নির্দেশিকা এবং মন্ত্রী মালতী রাভা রায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, নিচের ক্যাটাগরির মহিলারা ৩,০০০ টাকা পাবেন না:
১. স্থায়ী সরকারি কর্মচারী: স্বামী যদি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মচারী হন, তবে স্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য
২. পৌরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মী: স্থায়ীভাবে পৌরসভা বা পঞ্চায়েতে কর্মরতদের পরিবারের মহিলারাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
৩. সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বা কলেজের স্থায়ী শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের স্ত্রীরা এই টাকা পাবেন না।
৪. পেনশনভোগী ও আয়করদাতা: স্বামী যদি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়মিত পেনশন পান অথবা পরিবারের কেউ আয়কর দেন, তবে সেই মহিলারা আবেদনের যোগ্য নন।
কারা সুবিধা পাবেন? তবে সব সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিবার বাদ যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে:
চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক মজুরি: স্বামী যদি সরকারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক (Contractual), দৈনিক মজুরি বা আউটসোর্সড কর্মী হিসেবে কাজ করেন, তবে তাঁদের স্ত্রীরা সাধারণত এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী: আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং মিড-ডে মিল কর্মীরা নিজেরাই আবেদনের যোগ্য হতে পারেন, কারণ তাঁরা "স্থায়ী সরকারি কর্মচারী" হিসেবে গণ্য হন না।
যাচাই ও সমাধান: সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। যদি কোনো যোগ্য মহিলা টাকা না পেয়ে থাকেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮২৮২০৮২৮২ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে, যেখানে সোম থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়াও রাজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে গিয়ে 'Track Application' অপশনের মাধ্যমে নিজের আবেদনের স্থিতি পরীক্ষা করা সম্ভব।
নবান্ন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের সহায়তা করা, তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

