বিয়ের উপহারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এবার সরকারি অনুষ্ঠানেও অতিথিদের উপহার হিসেবে এক হাঁড়ি পেঁয়াজ দিলেন উদ্যোক্তারা! অভিনব কাণ্ড ঘটেছে হাওড়ার বাগনানে। পেঁয়াজ উপহার পেয়ে অবশ্য বেজায় খুশি অতিথিরা। 

বাজারে সব আনাজের দাম উর্ধ্বমুখী। তবে পেঁয়াজ কিনতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে আমবাঙালিকে। এ  রাজ্যে খুচরো বাজারে এক কিলো পেঁয়াজের দাম দেড়শো ছাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পেঁয়াজের দাম ডবল সেঞ্চুরি পার করে  গেলে আশ্চর্যের কিছু নেই! মাথায় হাতে ভোজনপ্রিয় বাঙালির। অনেক বাড়িতেই রবিবার মাংস রান্নাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ক্রেতা  ও বিক্রেতাদের মধ্যে বচসা, এমনকী হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। গয়না বা অন্য কোনও দামী সামগ্রী নয়, বিয়ে এখন নবদম্পতিকে প্যাকেট ভর্তি পেঁয়াজ উপহার দিচ্ছেন অনেকেই।  সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরালও হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু, তা বলে সরকারি অনুষ্ঠানেও অতিথিদের পেঁয়াজ উপহার! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার বাগনানে। 

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগনানের পান আড়তে পালিত হয় বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। উদ্যোক্তা বাগনান গ্রামীণ কৃষি কল্যাণ সমিতি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি সমিতি প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ মানস বসু, অধ্যাপক আক্রামূল হক-সহ আরও অনেকে। সকলের হাতে উপহার হিসেবে মাটির হাঁড়িতে ভর্তি পেঁয়াজ তুলে দেন উদ্যোক্তারা।বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্যোক্তা ও বাগনান-১ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ চন্দ্রনাথ বসু বলেন,  বাজারে এক কেজি পেঁয়াজের দাম দেড়শো টাকা। হেঁসেলে পেঁয়াজের জোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাংস ও মাছের কয়েকটি পদ আবার পেঁয়াজ ছাড়া রান্নাও করা যায় না। ফলে গৃহিণীদেরও মুখভার। তাই পেঁয়াজ ছাড়া আর কোনও উপহারের কথা ভাবতেই পারেননি।