কলকাতা : দু'বছর পর নিজের সন্তানদের কাছে ফিরে পেলেন মা। সৌজন্যে হ্যাম রেডিও। গত দু'বছর আগে নৈনিতাল থেকে ট্রেনে করে ভুলবশত পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিলেন সাবিত্রী দেবী। চলে এসেছিলেন দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন হাওড়াতে। সেখান থেকে কোন ভাবে চলে যান রাজারহাটে। তারপর থেকে শুরু হয়েছিল জীবনের এক অন্য সংগ্রাম, অন্য লড়াই। পরিবার থেকে অনেক দূরে থেকে ভিন্ন লড়াই। বাড়ি কোথায়? কিভাবে এলেন রাজারহাটে? তার সমস্ত কিছুই ছিল সাবিত্রী দেবীর কাছে অজানা। শুধুমাত্র পরিবারের কাছে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বেরিয়েছিলেন নৈনিতাল থেকে। কিন্তু এক ভুল ট্রেন তাকে উত্তরপ্রদেশের না পৌঁছে, পৌঁছে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। 

তারপর দু বছরে অনেক ঝড়-ঝাপটা কেটেছে সাবিত্রী দেবী উপর দিয়ে। না খেয়ে দিনের পর দিন কেটেছে রাস্তায়। ঘুরে বেড়িয়েছেন ভবঘুরের মত। অবশেষে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশের সৌজন্যে ঠাঁই হয়েছিল রাজারহাটের একটি হোমে। স্বাভাবিক জীবন থেকে হঠাৎ করে ছন্দপতন ঘটে যাওয়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন সাবিত্রী দেবী। পরবর্তীতে হ্যাম রেডিওর কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দু বছর পর ফিরে পেলেন নিজের পরিবারকে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব’-এর সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, পুলিশের কাছ থেকে প্রথম সাবিত্রী দেবী সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। তারপর একাধিকবার কথা বলেন সাবিত্রী দেবীর সঙ্গে। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারানোয় সেই ভাবে নিজের পরিচয় কিংবা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারছিলেন না তিনি। নানা ভাবে প্রশ্ন করায় অবশেষে উত্তরপ্রদেশের নিজের গ্রামের কথা বলতে পারেন। তারপর খোঁজ খবর নিয়ে ওই গ্রামে পৌঁছায় হ্যাম রেডিও সদস্যরা। 

আরও পড়ুনঃকরোনা আবহে ভার্চুয়ালি বাস ডিপোর উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর, খুশির হাওয়ার রামপুরহাটে

সেখানে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান মেলে সাবিত্রী দেবীর দুই সন্তানের। তারপর সমস্ত প্রমান হাতে নিয়ে তাদেরকে বলা হয় কলকাতায় আসার জন্য। অবশেষে দুই সন্তানের কাছে মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয় তাদের মাকে। দীর্ঘ দুই বছর পর মাকে ফিরে পেয়ে খুশি সন্তানরা। মাকে যে এইভাবে ফিরে পাওয়া যাবে তা কখনও কল্পনাও করেননি তারা। মা হারিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। রেলস্টেশন, ট্রেন, বাস স্ট্যান্ড অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও মায়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে ত্রাতা হয়ে দেখা দিল হ্যাম রেডিও। আর সেই হ্যাম রেডিও সৌজন্যে হারিয়ে যাওয়া মাকে দু বছর পর ফিরে পেলেন সন্তানরা।