আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে মায়ের আগমনী সুর। আগমনীর সুরধ্বনিতে সরগরম পুজোর প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতিই ধরা পড়েছে জেলায় জেলায়। অন্যান্য পুজো কমিটির মতো বাঁকুড়ার পুয়াবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। 

পুয়াবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবারের থিম হারিয়ে যাওয়া দিনের খোঁজে। এই পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের পুজো মণ্ডপে এলে সাধারণ মানুষ হারিয়ে যাবে পুরোনো সেই দিনের কথায়। কয়েক দশক আগে যে জিনিসগুলি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল তাই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি জিনিসকে তো কার্যত বিলুপ্ত বলাই চলে। এইসবের মধ্যে অন্যতম হল, হাতে টানা রিক্সা, পালকি , কলের গান ইত্যাদি।  এইরকম অনেক জিনিসই রয়েছে যা একসময়ে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত চেনা-পরিচিত হলেও এখনকার প্রজন্ম এর অনেক কিছুর সঙ্গেই একেবারেই পরিচিত নয়। আর সেই কারণে হারিয়ে যাওয়া জিনিসকে নতুন আঙ্গিকে ধরতেই এই বিশেষ থিমের ভাবনায় পুয়াবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। 

আরও পড়ুন- স্বস্তিক চিহ্নের সঙ্গে ছৌ-এর অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে আসতেই হবে জগাছা ইউথ কেয়ারের পুজোয়

আরও পড়ুন- দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্লকপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের এবারের থিম 'আনন্দলোকে আনন্দময়ী'

আরও পড়ুন- পুজোতে গ্রামীণ জীবন শৈলীর নিদর্শন তুলছে ব্যান্ডেল অধিবাসীবৃন্দ

তবে থিমের ভাবনা যেমন অভিনব তেমনই উপায় পরিবেশন করা হবে এই থিম। কীভাবে? মণ্ডপ সজ্জার অনেকটাই করা হচ্ছে পাটের সাহায্যে। বাংলার ঐতিহ্যশালী পাট শিল্পকে বিশেষভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং একইসঙ্গে সমাজকে প্লাস্টিকের কবল থেকে মুক্ত করতেই এক অভিনব উপায় মণ্ডপ সজ্জার কথা ভেবেছেন এই পুজো কমিটি। এবারের শারোদৎসবের এই অভিনব পুজোর থিমের ভাবনা ভেবেছেন সঞ্জয় মাইতি। মণ্ডপ সজ্জায় রয়েছেন দেবী বন্দোপাধ্যায় এবং প্রতিমা নির্মাণে রয়েছেন সনাতন শরিন। সুতরাং পুরনো সেই দিনের কথায় হারিয়ে যেতে আপনাকে আসতেই হবে পুয়াবাগান সর্বজনীন-এর পুজোয়।