সাইকেল পিছু দিতে হবে চল্লিশ টাকা। সবুজ সাথীর সাইকেল পাওয়ার জন্য এমনই ফরমান জারি করলেন খোদ স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সরকার যেখানে বিনামূল্যে পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে কীভাবে প্রধান শিক্ষক সাইকেলের বিনিময়ে টাকা চাইছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে অভিভাবকদের মধ্যে। এমনই অভিযোগ উঠেছে আসানসোলের কুলটির মিঠানি হাইস্কুলে। 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন পাল  অবশ্য এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর সাফ কথা, 'কে মুখ্যমন্ত্রী ? টাকা না নিলে কি করে কাজটা হবে? কোনও উত্তর দেব না। আমি যা করছি, বেশ করছি।' বরং টাকা চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করায় উল্টে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিনিধির দিকেই রে রে করে তেড়ে এসে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। 

মঙ্গলবার ছাত্রদের নতুন সাইকেল এসে পৌঁছয় কুলটির স্কুলটিতে। নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা সাইকেল নেওয়ার জন্য ভিড় জমায়। কিন্তু তারা জানতে পারে, সাইকেল নিতে গেলে চল্লিশ টাকা করে দিতে হবে। 

স্কুলের বেশির ভাগ পড়ুয়াই দিন মজুরদের পরিবার থেকে এসেছে। চল্লিশ টাকাও তাদের অনেকের কাছে থাকে না।   টানা না থাকায় স্কুল চলাকালীন বাড়িতে সবাই ছুটে যায় টাকা আনতে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি স্কুল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। টাকা নিয়ে তবেই সাইকেল পায় ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু যে টাকা আনতে পারেনি, তার ভাগ্যে সাইকেল জোটেনি। যে সাইকেলগুলি বিলি হবে না, সেগুলি মঙ্গলবারই ফেরত চলে যাবে বলে জানতে পেরেছিল পড়ুয়ারা। তাই যেন তেন প্রকারে টাকা জোগারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। 

অভিভাবকদের দাবি, তাঁদের বলা হয়েছে সাইকেলগুলি স্কুলে নিয়ে আসার গাড়ি ভাড়া বাবাদ নাকি পড়ুয়া পিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক থেকে স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্য, সবাই ঘটনার তীব্র নিন্দা

করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষক এরকম কাজ করতে পারেন না। আইন বিরুদ্ধ তিনি কাজ করেছেন। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলে আগেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফান্ডে টাকা পড়ে থাকা সত্বেও প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন পাল উদ্যোগী না হওয়ায় চার বছর ধরে স্কুলের তরফে পড়ুয়াদের পোশাক দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।