সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও প্রাথমিক পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই রাজ্যের অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া নীতি গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতায় আসামাত্রই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ৩-ডি নীতিও নিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত , পাকড়া করে তাদের ফেরত পাঠান। কিন্তু প্রশাসনকে আর অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজার কাজ শুরু করতে হয়নি। তার আগেই অনুপ্রবেশকারীরা নিজেই তল্পিতল্পা নিয়ে বাংলাদেশে ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছে। এই অবস্থায় অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখানে রাজ্যের বিজেপি সরকারের উদ্যোগে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য...
রাজ্যে একাধিক জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সোখানেই রাখা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের। তেমনই একটি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে মালদায়। সেখানে দেখা গেল অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এলাহী আয়োজন করা হয়েছে। মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, 'হোল্ডিং সেন্টারে যারা থাকছেন তাদের থাকা আর খাবাদাওয়ার সবরকম ব্যবস্থা করছে সরকার। জেলা প্রশাসন ও সিভিল প্রশাসন খাওয়াদাওয়া দিচ্ছে। রান্নার জন্য স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ুক্ত করা হয়েছে। চার বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।' কী কী খাবার দেওয়া হচ্ছে তাও জানিয়েছে প্রশাসন। সূত্রের খবর , হোল্ডিং সেন্টারে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চার বেলাই খাবার দেওয়া হচ্ছে। বড়দের, ভাত,রুটি, মাছ, মাংস, ডিম ষ সবজি - জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে। বাচ্চাদের চারবেলা দুধ দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে বেবি ফুডও দেওয়া হচ্ছে। হোল্ডিং সেন্টারে থাকা পুরুষ ও মহিলাদের পোশাকের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। স্নানের জন্য সুগন্ধি সাবান এমনকি শ্যাম্পুও দেওয়া হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তা
মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, পুশব্যাকের আগে অনুপ্রবেশকারীদের রীতিমত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। তবে নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক দিতে রাজি নয় প্রশাসন। হোল্ডিং সেন্টারগুলিকে তিন জন পুলিশ আধিকারিক বা তারও বেশি পুলিশ আধিকারিক মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়াও সিভিক ভল্যান্টিয়াররাও রয়েছে। হ্যালোজেন লাইট ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরব ছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দিকে তারা অভিযোগের আঙুল তুলেছিল। অমিত শাহ অনুপ্রবেশকারীদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।

