রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে প্রোটোকল সম্পর্কিত ত্রুটি সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে প্রোটোকল সম্পর্কিত ত্রুটি সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তনের কারণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার তালিকাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল শুক্রবার বিকেলে। এবছর শিলিগুড়িতে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। উদ্যোক্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন এই কনফারেন্স হবে বিধাননগরে। কিন্তু তারপরেও চারবার সভাস্থল বদল করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি মেলে প্রশাসনের তরফে। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। প্রোটোকল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি অর্থাৎ কোনও মন্ত্রীকে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সেই প্রোটোকলও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোঁসাইপুরের সম্মেলনে কম লোকজনের উপস্থিতি দেখে অবাক হন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে কথা চেপে রাখেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, 'এখানে বসে আমি অনেক সাঁওতালি মানুষকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। এত চেয়ার ফাঁকা কেন? মনে হচ্ছে যেন কেউ তাঁদের এখানে আসতে বাধা দিচ্ছে। যখন আমি মাঠ এবং ব্যবস্থা দেখি, তখন আমার মনে হয় সাঁওতালি সম্প্রদায়ের এত বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে সকলের খোলাখুলি অংশগ্রহণ করা উচিত। কারা সাঁওতালদের আটকাতে চাইছে? কারা চায় না সাঁওতালরা একজোট হোক? শিক্ষিত হোক?"
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে সরাসরি বিধাননগরে চলে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখান থেকেই বলেন, আমি তো এই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলাম। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার আমাকে সভা করতে দিল না? এখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভাল হত। এখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। রাজ্য সরকার মনে হয় আদিবাসীদের ভাল চায় না, তাই এখানে তাঁদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও। আপনার সকলে ভাল থাকবেন।"
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট করেন, "এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী। সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত হালকা ভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’’
পাল্টা কলকাতার ধর্না মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির এই ‘ক্ষোভ’কে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। বরং নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে কাজে লাগিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক ও এক্স) এক কড়া পোস্টে সাফ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি নিজের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা চরিতার্থ করতে চাইছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নিজের দাবির স্বপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক চিঠি ও নথি পোস্ট করেন। সেই নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির এই সফরে তাঁকে স্বাগত বা বিদায় জানানোর জন্য তাঁর থাকার কথা ছিল না। প্রশাসনের তরফে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, দার্জিলিঙের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরের থাকার কথা ছিল। বিমানবন্দরে তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগতও জানান।
