বেঙ্গল এসটিএফের জালে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আরও এক যুবক। ধৃতের নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদিত্যের খোঁজ মেলে। এরপরেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা।
বেঙ্গল এসটিএফের জালে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আরও এক যুবক। ধৃতের নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদিত্যের খোঁজ মেলে। এরপরেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, রাতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর সকালে গ্রেফতার করা হয় আদিত্যকে। সোমবারই তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হবে। অভিযোগ, জঙ্গি কার্যকলাপে হামিমকে সহযোগিতা করতেন তিনি। মন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলে সম্পর্কিত তথ্যপাচারও করেছেন আদিত্য।
জানা যাচ্ছে, হানিট্র্যাপের জন্য বাংলায় মহিলা গ্যাং তৈরির ছক করেছিল হামিম ও তাঁর দলবল। সুন্দরী ও উঠতি মডেলদেরই সোশাল মিডিয়ায় তাঁরা টার্গেট করছিল বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের লোকেদের হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর ছক কষা হয়। এই ব্যাপারে অর্পিতা ছাড়াও অন্য মহিলাদের কাজে লাগানো হত কি না সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। মডেলিং আর অভিনয়ের টোপ দিয়েই ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারকে দলে টেনেছিল হামিম মণ্ডল। হানিট্র্যাপের কাজ করলে অর্পিতা অনেক বেশি টাকা রোজগার করতে পারবে বলে তাঁকে বোঝায় হামিম।
কীভাবে অর্পিতা হানিট্র্যাপ করে হাওড়ার মন্ত্রীর পুত্রকে ফাঁসিয়ে তোলাবাজি করবে, সেই ব্যাপারে তাঁকে পাকিস্তান থেকে সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। আরও কতজনকে হানিট্র্যাপের জালে ফাঁসানো হয়েছে, সেটাই রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। আরও জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী শেহজাদ ভাট্টি ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের মাথারা এই রাজ্যে মহিলা গ্যাং তৈরি করতে শুরু করেছে। হামিম মণ্ডলের মতো জঙ্গি এজেন্টদের কাজে লাগানো হচ্ছে এই কাজে। পাকিস্তানের নির্দেশ, সুন্দরী যুবতী ও তরুণীদের সঙ্গে প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করতে হবে। তার পর তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘনিষ্ঠ হতে হবে। প্রয়োজনে বিয়ের প্রস্তাবও দিতে হবে। এর পর তাদের কাজে লাগানো হবে হানিট্র্যাপে। সেই নির্দেশমতোই হামিম ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে কাজে লাগিয়েছিল হানিটট্র্যাপে। প্রায় চার মাস ধরে অর্পিতা হাওড়ার মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তাঁর থেকে টাকা হাতানোর ছক কষছিল। এর পর মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণেরও ছক কষা হয়েছিল।
