Hooghly Election News: ভোটের প্রচারে বেড়িয়ে হুগলিতে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Hooghly Election News: তারকেশ্বরে ভোটের আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পাঁচ নম্বর মণ্ডলের ২০২ নম্বর বুথ এলাকায়। জনসংযোগে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি বিতর্কিত দৃশ্যের মুখোমুখি হন। এলাকায় দেখা যায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ছবিতে কাদা লেপে তা নোংরা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র একজন নেতার অসম্মান নয়, বরং দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অবমাননা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের পরিচয়। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ করা হয়েছে, যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায়।

হুগলিতে অব্যাহত শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক উত্তেজনা:-

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, ভোটের লড়াই থাকতেই পারে, কিন্তু এই ধরনের কাজ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কথাও বলা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে, এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের প্রচারকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় এলাকা। জয় বাংলা বনাম জয় শ্রীরাম স্লোগানে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

প্রসঙ্গত, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। অন্যদিকে, বেশকিছু দিন আগে একই বিক্ষোভের চিত্র দেখা যায় এই জেলার তারকেশ্বরে। বৈঠক শেষে ফেরার পথে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী সন্তু পানের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে তারকেশ্বরের চাউল পট্টি এলাকায়, যেখানে ওই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রচার মিছিল চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচি চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়।ঠিক সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান। তাঁর গাড়ি নজরে পড়তেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। শুরু হয় জয় বাংলা স্লোগান, এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপি প্রার্থীর গাড়িকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভকারীরা এবং গাড়িতে জোরালোভাবে ভাঙচুর চালানো হয়। গাড়ির কাচ ভাঙা থেকে শুরু করে গাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে দাবি বিজেপির। হঠাৎ এই আক্রমণে গাড়ির ভিতরে থাকা সন্তু পান পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। ঘটনাস্থলে তখন চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বিজেপির অভিযোগ, এই হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের দাবি, এলাকায় আগেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল এবং সুযোগ বুঝেই এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি আকস্মিক পরিস্থিতি এবং বিজেপির তরফ থেকেই উস্কানি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরপরই সন্তু পান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো বিষয়টি জানানো হয়। তবে অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বা দোষীদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। ঘটনার জেরে তারকেশ্বর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভোটের মুখে এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দোষীদের গ্রেফতার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছে। ভোটের প্রাক্কালে এই ধরনের সংঘর্ষ যে আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।