আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো রাজ্যকে 'লুঠ' করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সোমবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AUJP) প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যকে 'লুঠ' করার অভিযোগ তোলেন। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হুমায়ুন কবীর বলেন, "আর কী বলব? যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে। এটা তো হওয়ারই ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ভাইপোকে এত ক্ষমতা দিয়েছেন। ওঁরা মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে টাকা লুঠ করেছে। ব্রিটিশরা ১০০-২০০ বছরে যা লুঠ করতে পারেনি, এরা ১৫ বছরে তার চেয়ে বেশি লুঠ করেছে। আমি বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা রাজ্যকে লুঠ করা তৃণমূলকে এমন জবাব দিয়েছে।" 

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ বিতর্ক নিয়ে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রেজিনগর এবং নওদা—দুটি আসনেই এগিয়ে রয়েছেন। 

রেজিনগরে তৃতীয় রাউন্ড গণনার পর তৃণমূল প্রার্থী আতউর রহমান তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছেন। এখানে বিজেপির বাপন ঘোষ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, তাঁর ভোটের ব্যবধান ৬৩২৫। নওদা আসনেও তৃণমূলের একই হাল। সাত রাউন্ড গণনার পর তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খান তৃতীয় স্থানে। এই আসনেও হুমায়ুন কবীর প্রথম স্থানে রয়েছেন। নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কবীর বলেন, "আমি দুটো আসনেই জিতব আর দুপুর ৩টের মধ্যে সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি যাব।" 

এদিকে, এই টানটান উত্তেজনার বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। দুপুর ১:১৫ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি ১৮৭টি আসনে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ৯২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। 

বিজেপি বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেই কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। 
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ৯১.৬৬% ভোট পড়েছিল। প্রথম দফায় ভোটদানের হার ছিল ৯৩.১৯%, ফলে মোট ভোটের হার দাঁড়ায় ৯২.৪৭%। 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস একাই ২১৩টি আসন জিতেছিল। তাদের ভোটের হার ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি ৭৭টি আসন এবং প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। বাম-কংগ্রেস জোট একটিও আসন জিততে পারেনি।