মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একমাস আগেই স্বামীর সংসার ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছিলেন হাসিনা খাতুন। কিন্তু ছেলে মেয়েদের মায়ার টানে বারবার ফিরে যেতেন স্বামীর বাড়িতে। আর তা করতে গিয়েই নিজের বিপদ ডেকে আনলেন ওই গৃহবধূ। মাঝপথেই তাঁকে খুন করল মদ্যপ স্বামী। 

সোমবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ফুলবাড়ির জোরপাকড়ি এলাকায়। স্বামীর হামলার জেরে নিহত ওই তরুণীর নাম হাসিনা খাতুন (২৬)। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে দেখাশোনা করে ফুলবাড়ির জোরপাকড়ি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল হাসিনার। মহম্মদ সিরাজ পেশায় দর্জি। ওই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে। যদিও, সংসারের হাল না ধরে মদ জুয়া নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল সিরাজ। প্রায়শই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে মারধর করত সে। অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় কিছুদিন আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে টিকিয়াপাড়ায়  নিজের বাপের বাড়িতে চলে আসেন হাসিনা খাতুন। কিন্তু মাঝেমধ্যে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ছেলে এবং মেয়ের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে আসতেন তিনি। 

সোমবার সন্ধ্যাতেও একই কারণে জোরপাকড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন হাসিনা। এ ছাড়াও লক্ষ্য ছিল স্থানীয় এক ব্যক্তির থেকে পাওনা টাকা নেওয়া। যদিও জোরপাকড়ি যাওয়ার পথেই সিরাজ হাসিনার পথ আটকায়। এর পর আচমকাই ভোজালি দিয়ে হাসিনার হামলা চালায় সে। এলোপাথাড়ি আঘাতের ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হাসিন।  ঘটনার জেরে হাসিনার গলা, বুক ও মাথায় গভীর ক্ষত হয়। 

ঘটনার খবর পেয়ে এনজেপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ওই মহিলাকে উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। ঘটনার পরেই মৃতার স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।