Feel the Jail: একদিন জেলে থাকতে চান? কাটাতে চান গারদের অন্ধকারে? ব্যবস্থা হয়ে যাবে। জেলের ভিতরের জীবনটা ঠিক কেমন? কয়েদিরা কী খান, কী পোশাক পরেন, কীভাবে কাটে তাঁদের দিন? সেই অভিজ্ঞতা এবার নিজেরাই অনুভব করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
Feel the Jail: একদিন জেলে থাকতে চান? কাটাতে চান গারদের অন্ধকারে? ব্যবস্থা হয়ে যাবে। জেলের ভিতরের জীবনটা ঠিক কেমন? কয়েদিরা কী খান, কী পোশাক পরেন, কীভাবে কাটে তাঁদের দিন? সেই অভিজ্ঞতা এবার নিজেরাই অনুভব করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে হায়দরাবাদের চঞ্চলগুড়া সেন্ট্রাল জেল। মাত্র ২ হাজার টাকা খরচ করলেই একদিনের জন্য 'কয়েদি' হয়ে থাকা যাবে জেলের ভিতরে। 'ফিল দ্য জেল' নামে নতুন এই প্রকল্প চালু করেছে জেলে কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে বন্দিজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করানো। এই কর্মসূচিতে অংশ নিলে জেলের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই থাকতে হবে।

১২ ঘণ্টার জন্য কাটান জেলে
বন্দিদের মতো খাবার খেতে হবে, পরতে হবে একই ধরনের পোশাক। এমনকি জেলের রুটিনও পালন করতে হবে অংশগ্রহণকারীদের। কারা দফতর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার অভিজ্ঞতার জন্য খরচ হবে ২ হাজার টাকা। কেউ চাইলে ১২ ঘণ্টার জন্যও এই অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে ১ হাজার টাকা। সাধারণ নাগরিকদের জন্য আলাদা করে বিশেষ সেলও তৈরি করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র কৌতূহল মেটানো নয়। মানুষকে বোঝানো, স্বাধীনতার মূল্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যাতে অপরাধের পথ থেকে দূরে থাকে এবং সৎ জীবনের গুরুত্ব বুঝতে পারে, সেই বার্তাই দিতে চাইছে প্রশাসন। কারা দফতরের আশা, এই অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা এবং কারাব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা আরও বাড়বে।
কোথায় থাকবেন
এদিকে হায়দরাবাদে সম্প্রতি চালু হয়েছে একটি জেল সংগ্রহশালাও। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে নিজ়ামের আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কারাগার ব্যবস্থার বিবর্তনের ইতিহাস। প্রদর্শনীতে রয়েছে পুরনো শেকল, ঐতিহাসিক সেল, বন্দিদের ব্যবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী এবং সংশোধনমূলক কর্মসূচির নানা তথ্য। পাশাপাশি নাগার্জুন সাগর বাঁধ নির্মাণে বন্দিদের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তেলঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি হেরিটেজ প্রিজ়ন মিউজ়িয়ামে 'একদিনের জেল অভিজ্ঞতা' কর্মসূচির জনপ্রিয়তার পরই এই নতুন প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি তেলঙ্গানার রাজ্যপাল শিবপ্রতাপ শুক্ল এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন। তাঁর বক্তব্য, আধুনিক সংশোধনাগার শুধু শাস্তির জায়গা নয়, পুনর্বাসন এবং জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ারও কেন্দ্র হওয়া উচিত।


