পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদঃ অভিনব উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস পালনে নয়া নজির গড়ল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ। দেখা মিলল দেশের সর্ববৃহৎ পতাকার। 'এক' 'দুই' মিটার নয়, রীতিমত দেশের সর্ব বৃহৎ ৫০০ মিটার দৈর্ঘের জাতীয় পতাকা।  স্থানীয় দর্জি অজিত শেখের হাতের বানানো পতাকায় পালিত হল ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস। এ নিয়ে জেলা কিংবা রাজ্যই নয়, দেশের মধ্যেও এত বড় মাপের জাতীয় পতাকার বোধহয় দেখা মেলেনি এর আগে। এবার সেই পদক্ষেপ নিয়েই নজির গড়ল মুর্শিদাবাদ। তা নিয়েই দিনভর সরগরম থাকে আঠ থাকে আশি সকলে।

খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তা নেটিজেনদেন নজর কাড়ে। প্রশংসিত হয় এই উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ কম্পিটার প্রশিক্ষণ নেন, কেওবা আবার চাকরীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু অগাস্ট মাস পরলেই জিয়াগঞ্জ কেয়ার একাডেমির ছেলে মেয়েরা অভিনব ভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনে প্রস্তুতি শুরু করে দেন প্রতিবছরই। এ বছরও নিয়মমাফিক তাঁদের ঝুলিতে ছিল নতুন পরিকল্পনা। ৫০০ মিটারের এই জাতীয় পতাকা তো আছেই সঙ্গে তাঁরা এলাকার ২টি  হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ করেন। এখানেই শেষ নয়, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের উদ্যোগও বৃহস্পতিবার নিয়ে থাকেন তাঁরা। 

আরও পড়ুনঃ আজও সজল চোখে খেয়াল পড়ে তাঁর কথা, কেমন আছে শহিদ গঙ্গাধরের পরিবার

তবে সব ছাপিয়ে আপাতত পেল্লাই সাইজের জাতীয় পতাকাতেই বুঁদ ওই একাডেমির তরুণ-তরুণীসহ স্থানীয় সকলে। বৃহস্পতিবার জিয়াগঞ্জ শহর কে মুড়ে দিতে ৫০০ মিটারের ওই জাতীয় পতাকা তৈরি করতে প্রায় সাড়ে তেরো হাজার টাকা খরচ পরে, তাঁদের দাবি এটিই ভারতের সর্ববৃহৎ পতাকা। আর যার হাতের গুনে এই অসাধ্য সম্পন্ন হয়েছে, তিনি হলেন সেই টেশন এলাকার দর্জি অজিত শেখ, টানা ৯দিন ধরে ওই পতাকা এক নাগাড়ে বানিয়েছেন তিনি। এর জন্য অবশ্য তিনি কোন পারিশ্রমিক নেননি। এই বিষয় উদ্যোক্তা তথা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার অহেদ আব্দুল্লা বলেন," জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বাধীনতা দিবস পালন করি আমরা। শহিদ স্মরণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ছেলে মেয়েরা প্রত্যেক বছরই অভিনব কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করে। এবছর দেশের সর্ব বৃহৎ ৫০০ মিটারের পতাকা তৈরি করে এলাকার মানুষ কে অভিনবত্বের স্বাদ দিচ্ছে"। এদিকে কেয়ার একাডেমির স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে সামিল হওয়া কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে এই ব্যাপারে প্রবীণ নাগরিক আমীর আলী, সন্তোষ দাসেরা একত্রে এশিয়া নেট বাংলা এর প্রতিনিধিকে বলেন-"এই ভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন আমাদের আজীবনকালে স্মরণীয় হয়ে থাকলো"।