পুজোর পাস দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারের পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী না করে আরও অনেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন কল্যাণ। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ক্ষমতাই দুর্নীতির অন্যতম মূল কারণ।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সরব কল্যাণ

পুজোর পাস সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে শুধু এই গ্রেপ্তারি নয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার প্রভাব নিয়েও এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতাদের ঘিরে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রবণতাকেই দুর্নীতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।

শ্রীরামপুরের সাংসদের কথায়, রাজনীতিতে এখন অনেকের কাছে দল বা আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার গুরুত্ব বেশি। অথচ তাঁর নিজের রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা আলাদা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যতবার বদলেছে, ততবারই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছেন। এর পিছনে কোনও পদ বা ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং মমতার প্রতি আস্থা ও ভালোবাসাই কাজ করেছে বলে জানান কল্যাণ। তাঁর দাবি, দলের বহু পুরনো কর্মীও একই মনোভাব নিয়ে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু বর্তমানে রাজনীতিতে এমন মানুষের সংখ্যাই বাড়ছে, যাঁরা ক্ষমতার সুযোগ নিতে আগ্রহী।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং ইন্দ্রনীল সেনের প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণের বক্তব্য, দলের মধ্যে কারা গুরুত্ব পাবেন, তা অনেক সময় নেত্রীর ঘনিষ্ঠতার উপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা অনেকেই যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। কাজল শেখের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। কল্যাণের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার পরই তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একার দিকে আঙুল তুলে দায় শেষ করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলে সেই ক্ষমতা ঘিরে স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়মের আশঙ্কা বাড়ে। সেই কারণেই কোনও দলের একটানা পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা সমীচীন নয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণই দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি করে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, একসময় যাঁরা সততা ও আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করতেন, তাঁদের কাছে এখনকার পরিস্থিতি যথেষ্ট যন্ত্রণার। তাঁর অভিযোগ, জনসেবার উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসার বদলে অনেকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ পূরণের লক্ষ্য নিয়ে আসছেন। এ ধরনের কাজের প্রভাব পড়ছে দলের ভাবমূর্তিতে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংগঠনও। একের পর এক বিতর্ক সামনে আসার কারণ খুঁজে নেতৃত্বকে আত্মবিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।