Investment Scam: একেবারে সিনেমার কায়দায় প্রতারণা। দু বছরেই টাকা ডবলের প্রতিশ্রুতি। চিটফান্ডের আদলে অর্থ সংগ্রহ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত।এমনই ঘটনা হাওড়ায়।ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার ডিরেক্টর সুজয় কাঞ্জিলাল, নমিতা কাঞ্জিলাল, সুদ্রিশা কাঞ্জিলাল
Investment Scam: একেবারে সিনেমার কায়দায় প্রতারণা। দু বছরেই টাকা ডবলের প্রতিশ্রুতি। চিটফান্ডের আদলে অর্থ সংগ্রহ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত। এমনই ঘটনা ঘটল হাওড়ায়। ২৫ মাসে লগ্নি করা টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে একটি বেসরকারি লগ্নি সংস্থার তিন কর্তা-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার ডিরেক্টর সুজয় কাঞ্জিলাল, নমিতা কাঞ্জিলাল, সুদ্রিশা কাঞ্জিলাল এবং সংস্থার তিন কর্মী তনুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, অনির্বাণ কুণ্ডু ও অভিষেক পাল।

কীভাবে হয় প্রতারণা
হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডিসিপি রাহুল মিশ্র জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েক জনের জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলিলিয়াস রোডের এক বাসিন্দার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাটরা থানায় মামলা রুজু হয়। সেই মামলার তদন্তেই এই গ্রেপ্তারি। অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে অভিযুক্তেরা অভিযোগকারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৫ মাসে বিনিয়োগের অর্থ দ্বিগুণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়।
তদন্তকারীরা কী বলছেন
তদন্তকারীদের দাবি, প্রথম দিকে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই প্রতারণার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি চিটফান্ডের আদলে অর্থ সংগ্রহ ও পরিচালনা করছিল বলে সন্দেহ। ইতিমধ্যেই হাওড়ার ব্যাটরা, শিবপুর, চ্যাটার্জিহাট, বি-গার্ডেন এবং কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট-সহ একাধিক থানায় সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম
তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলার তথ্য মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য সামনে এসেছে। হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান, কলকাতা-সহ একাধিক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয়, সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।


