ইসকন ২০০৪ সাল থেকে সারা ভারত জুড়ে মিড-ডে মিল পরিবেশন করে এবং আটটিরও বেশি রাজ্য ও ২২টি শহরে তারা মিড ডে মিলের খাবার তৈরির দায়েত্বে রয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ইসকন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে মিড-ডে মিল পরিবেশনের প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। সংগঠনটির কাজের ভালো নজির বা ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। 

পিএম পোষণ' (PM POSHAN) প্রকল্পের আওতায় কলকাতার অধিকাংশ সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজের দায়িত্ব ইসকন (ISKCON)-এর হাতে আসার পর শিক্ষার্থীদের ডিম দেওয়া বন্ধ হতে পারে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেট ঘোষণার পর ইসকন কলকাতার ১,৮০০-র বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য মিড-ডে মিল রান্না ও পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ধর্মীয় সংগঠনটি শহরে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ইসকনের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাস জানিয়েছেন যে, নতুন মেনু পুষ্টিকর হলেও তাতে ডিম রাখা হবে না। দাস বলেন, "একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে ডিমই প্রোটিনের একমাত্র সমৃদ্ধ উৎস এবং এর কোনও নিরামিষ বিকল্প নেই। সয়াবিন, রাজমা, পনির, বিনস, ডাল ও কলাইয়ের মতো খাবার থেকে সমপরিমাণ উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন পাওয়া যায়। মেনু তৈরির জন্য আমরা পুষ্টিবিদদের (ডায়েটিশিয়ান) নিযুক্ত করেছি। আমরা নিশ্চিত করব যে, ডিম থেকে শিশুরা যে পুষ্টি পায়, আমাদের খাবারের উন্নত মানের প্রোটিন ও ভিটামিন যেন তার সমতুল্য বা তার চেয়েও বেশি পুষ্টি জোগায়।"

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইসকন ২০০৪ সাল থেকে সারা ভারত জুড়ে মিড-ডে মিল পরিবেশন করে এবং আটটিরও বেশি রাজ্য ও ২২টি শহরে তারা মিড ডে মিলের খাবার তৈরির দায়েত্বে রয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ইসকন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে মিড-ডে মিল পরিবেশনের প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। সংগঠনটির কাজের ভালো নজির বা ট্র্যাক রেকর্ডের কারণে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

কলকাতায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করা বহু বছর ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। পড়ুয়াদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের ঘটনা প্রায়ই সামনে এসেছে, যা ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি করেছে। কলকাতার অনেক স্কুলে জায়গার অভাব থাকায় পূর্ববর্তী সরকার বেশ কয়েকটি 'কমিউনিটি কিচেন' বা যৌথ রান্নাঘর গড়ে তুলেছিল, যেখান থেকে এখনও মিড-ডে মিল পরিবেশন করা হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর (SHG) পরিচালনায় চলা এই রান্নাঘরগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। বর্তমানে তারা যে বৈচিত্র্যময় খাবারের তালিকা বা মেনু অনুসরণ করে, তাতে সপ্তাহে একদিন ডিমের ব্যবস্থাও রয়েছে। শহরের ৬৫টি স্কুলে খাবার সরবরাহকারী একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের রান্নাঘরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে এর সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ তাঁদের জীবিকা হারাবেন। কার্যক্রম বন্ধ করার কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই প্রকল্প চালিয়ে যাব।"

বেশ কয়েকজন স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন যে, পড়ুয়াদের যদি উন্নত মানের খাবার দেওয়া হয়, তবে এই পরিবর্তনের ফলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র একদিনই ডিম দেওয়া হয়। ইসকন জানিয়েছে, বিপুল পরিসরে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরির লক্ষ্যে কলকাতায় একটি বিশ্বমানের ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কেন্দ্রীয় রান্নাঘর নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যেন বিরতির আগেই গরম ও সদ্য প্রস্তুতকৃত খাবার স্কুলগুলোতে পৌঁছয়। রাধারমণ দাস জানান, স্কুল শিক্ষা দফতরেরর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং ইসকন রান্নাঘরটির জন্য উপযুক্ত জমির খোঁজ করছে। এই প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে।

তিনি বলেন, “খাবার তৈরির প্রকৃত খরচ সরকারের দেওয়া বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি হবে। তবে আমাদের কার্যক্রমকে সহায়তা করার জন্য একদল নির্ভরযোগ্য দাতা প্রস্তুত রয়েছেন। যেহেতু আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রসাদ হিসেবে খাবার রান্না করি, তাই আমরা নিশ্চিত করি যে এতে যেন কেবল সর্বোৎকৃষ্ট মানের উপকরণই ব্যবহার করা হয়।”