Lightning Strike: মালদার পারলালপুর ঘাটে বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গঙ্গা পেরিয়ে নৌকা থেকে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ৪ যাত্রীর। আহত হয়েছেন ১৫ জন। ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রীকে নিয়ে যাত্রীবাহী নৌকা রওনা দেয়।
Lightning Strike: মালদার পারলালপুর ঘাটে বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গঙ্গা পেরিয়ে নৌকা থেকে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বজ্রপাতে মৃত্যু হল চার যাত্রীর। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মালদার বৈষ্ণবনগর ও মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রীকে নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা মালদার পারলালপুর ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটি নিরাপদে ঘাটে পৌঁছনোর পর যাত্রীরা একে একে নামতে শুরু করেন। সেই সময় আচমকাই আকাশ কালো করে নামে প্রবল বৃষ্টি। শুরু হয় তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো আবহাওয়া।

কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই মুহূর্তের মধ্যে একাধিক যাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘাট চত্বরে শুরু হয় চরম আতঙ্ক। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। আহতদের আর্তনাদে মুহূর্তে ভারী হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং প্রশাসনের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশ আহতকে শামসেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বজন হারানোর কান্না
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম আসাদুল্লাহ শেখ, আনসার শেখ, একরামুল শেখ এবং কোচি শেখ। মৃত চারজনেরই বাড়ি মালদার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত পারলালপুর এলাকায়। এই আকস্মিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ দুই পাড়ের মানুষ। যারা কয়েক মুহূর্ত আগেও গঙ্গা পেরিয়ে পরিবারের কাছে ফেরার উদ্দেশ্যে নৌকায় চড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেই চারজনের জীবন থেমে গেল বজ্রাঘাতের ভয়াবহতায়। স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘাট চত্বরে কান্না, উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে শামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


