গোটা দেশে আক্রান্ত ৩১৫। আর এ রাজ্য়ে ৪। রবিবার রাজ্য়বাসীকে ঘরে আটকে রাখার জন্য় এটুকুই যথেষ্ট ছিল। আর ঠিক হলোও তাই। বনধের দিনেই যেরকম শুনশান থাকে রাস্তাঘাট, এদিন তার চেয়েও বেশি খাঁ-খাঁ করল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য়।

গত বৃহস্পতিবার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ১৪ ঘণ্টা জনতার কারফিউয়ের ডাক দেন, তখনও বোঝা যায়নি, রবিবার এমনভাবেই সন্নাটা ছেয়ে যাবে রাজ্য়জুড়ে। কারণ, তখন শুরু হয়েছিল হাজারো বিতর্ক। একদিন মাত্র ১৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখলে কী এমন লাভ হবে, মূলত এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছিল মানুষের মুখেমুখে। কেউ কেউ অবশ্য় পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, এতে করে কিন্তু ভাইরাসের শৃঙ্খল বা চেন ভেঙে যাবে। ফলে সংক্রমণ ছড়াবে না। যদিও এই তিনদিনে করোনার জল অনেকদূর গড়িয়েছে। দেশে আক্রান্তের সংখ্য়া ৩০০ ছাড়িয়েছে। রাজ্য়ে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন একে-একে চারজন। এদিকে পুণে ও দমদমের দুই আক্রান্তের মধ্য়ে বিদেশ যাওয়ার কোনও ইতিহাসও পাওয়া যায়নি। তাই ক্রমশ ভয় বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি তবে গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ?  ইতালির শিক্ষাও আমাদের অনেক পরিণত করেছে। প্রথম দিকে দুঃসাহসিক বেপরোয়া হলে কীভাবে  অচিরেই  তার খেসারত দিতে হয়, ইতালির পরিস্থিতি দেখে তা বুঝেছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে নেটিজেনরাও কার্যত একমত হয়েছেন রবিবার জনতার কারফিউ নিয়ে। আর এই সবের নিট ফল  হিসেবে রাজ্য়ে প্রায় একশোভাগ সফল হয়েছে জনতার  কারফিউ।

রবিবার সকাল থেকেই  রাজ্য়ে লোকাল ট্রেন চলেছে নামমাত্র। আর তাতে যাত্রীর সংখ্য়া নগন্য়।  কলকাতার রাস্তা যেন বনধের চেয়ে বেশি শুনশান হয়ে গিয়েছে। বনধের দিনে যেমন দু-একটা হলেও দোকানপাট খোলা থাকে, রাস্তায় ছেলেদের দল ক্রিকেট খেলে, এদিন তেমনটাও প্রায় দেখা যায়নি। রাস্তায় হলুদ ট্য়াক্সির যদি-বা দু-একটা দেখা গিয়েছে, অ্য়াপক্য়াব কার্যত অদৃশ্য় হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলার অবস্থাও ব্য়তিক্রম কিছু নয়। সেখানে রাস্তাজুড়ে এক অদ্ভুত সন্নাটা। পুরুলিয়ায় জেলা জুড়ে থমকে পড়েছে জনজীবন। স্টেশন থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাস সব যাত্রীবিহীন। এদিকে নবদ্বীপে ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের মূল ফটক সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।  বিষ্ণুপ্রিয়া সেবা সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার আবার আরতির সময়ে মন্দির খোলা হবে। এদিকে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন  কার্যত জনশূন্য়। লোকাল ট্রেন কিছু চলছে বটে, তবে তাতে যাত্রীর সংখ্য়া হাতে গোনার মতো।  এমনকি শ্মশানঘাটেও নেই চেনা ভিড়। রাস্তাঘাট শুনশান। দোকানপাট ঝাঁপবন্ধ। নবদ্বীপ থেকে মায়াপুর  ও স্বরূপগঞ্জের মধ্য়ে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। কৃষ্ণনগরের লোকজন কেউই জরুরি কাজ ছাড়া বড়-একটা রাস্তাঘাটে বেরোননি এদিন। তবে বাঁকুড়া শহরে এদিন দলবেঁধে ক্রিকেট খেলতে দেখা গিয়েছে কিছু যুবককে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মোটের ওপর সেখানেও সমানতালে চলেছে জনতার কারফিউ।

সবমিলিয়ে ভয় আর সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত জনতার কারফিউকে এই রাজ্য়ে সফল করে তুলল রবিবার। এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, রবিবার তো মহড়়া মাত্র। এই কারফিউ  আগামিদিনে আরও প্রলম্বিত হবে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত গোটা দেশজুড়ে হাতেগোনা কিছু রেল চলবে। বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে কলকাতা মেট্রোর দরজাও।