গ্রেফতার হলেন ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। নেপাল সীমান্ত টপকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-র আধিকারিকরা।
গ্রেফতার হলেন ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। নেপাল সীমান্ত টপকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-র আধিকারিকরা। বিধানসভা নির্বাচনের সময় পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা—যিনি ‘সিংঘম’ নামে পরিচিত—তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জাহাঙ্গির নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। যদিও ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের আগেই তিনি ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান।

২৪ মে নির্বাচনের ফল বেরোলে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে সিপিএম। আর ৭৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন জাহাঙ্গির। এরপর থেকেই নানা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। গত ২৬ মে জাহাঙ্গিরকে দেওয়া সমস্ত রক্ষাকবচই প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না পুলিশের। যদিও সেই থেকে পলাতক ছিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে বাংলার এসটিএফ তাঁকে নেপাল সীমান্তের কাছ থেকে গ্রেফতার করে।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন জাহাঙ্গির খান। ফলতা এলাকাটি অভিষেকের নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত। একসময়ে এখান থেকে প্রার্থী হওয়া খান এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যাকে গ্রামবাসীদের অনেকে 'ত্রাসের রাজত্ব' বলে অভিহিত করেন। এই বিষয়টি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার নজরে আসে, যিনি বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে ফলতায় নিযুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর 'সিংঘম'-সুলভ ভাবমূর্তির কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' হিসেবে পরিচিত শর্মা অবিলম্বে খানের এলাকায় পৌঁছন এবং সম্ভাব্য গোলমালকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে জাহাঙ্গির খান নিজেকে সিনেমার চরিত্র 'পুষ্পা'-র (যে চরিত্রটি জীবিকার জন্য চন্দন কাঠ পাচার করত) সঙ্গে তুলনা করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান।
গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’
