তাঁর দোকানে বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতার আনাগোনাও বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রধানমন্ত্রীকে মুড়ি মেখে খাইয়েছেন বলে কথা। তবে খ্যাতির বিড়ম্বনাও সামলাতে হচ্ছে দোকানের পাশাপাশি।
কার মুখ দেখে উঠেছিলেন সেদিন, এখনও ভাবছেন বিক্রম। ঝৈড়গ্রামের সেই ছোট্ট মুড়ির দোকানে এখন গোটা দেশের আগ্রহের আলো। সেই আলোতে কার্যত ঝলসে যাচ্ছেন বিক্রম সাউ। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার পর থেকেই প্রচারের আলো এসে পড়েছে ফুটপাথের দোকানে। সোমবার সকাল থেকে ঝালমুড়ি মাখবেন কী, বুম হাতে একের পর এক রিপোর্টার হাজির। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত বিক্রম।
ঝাড়গ্রামের সেই ছোট্ট দোকানঘরের মালিক বিক্রম সাউ এখন ঝাড়গ্রামের সেলিব্রিটি। তিতিবিরক্তও। তবে লাভের লাভ হয়েছে একটা। তাঁর দোকানে বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতার আনাগোনাও বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রধানমন্ত্রীকে মুড়ি মেখে খাইয়েছেন বলে কথা। তবে খ্যাতির বিড়ম্বনাও সামলাতে হচ্ছে দোকানের পাশাপাশি। তুলতে হচ্ছে অগণিত সেলফি। রিলস বানাতেও দেখা গিয়েছে কাউকে। তা পোস্ট হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। সেই সঙ্গে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত বিক্রম।
সেই প্রশ্নের মধ্যে সবথেকে যে বিরক্তিকর প্রশ্ন তাঁর কাছে বারবার আসছে, তা হল প্রধানমন্ত্রীর আচমকা গাড়ি থেকে নেমে তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা কি আগে থেকে স্ক্রিপটেড অর্থাৎ সাজানো? সোমবারেই জনসভা থেকে 'ঝালমুড়ি' নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ উড়ে এসেছে। 'সবটাই আগে থেকে সাজানো, সবটাই নাটক' — এমনই মন্তব্য করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সব শুনেই বুম হাতে ছুটেছেন সাংবাদিকরা।
'সত্যিই কি সব কিছু সাজানো?' প্রশ্নের মুখে বিক্রম বলছেন, 'সে সব আমি কী করে বলব? প্রধানমন্ত্রী দোকানে আসার মিনিট দশেক আগে কালো পোশাকে বডিগার্ড–এর মতো এক জন এসে মুড়ি খেতে চেয়েছিলেন। উনি মুড়ি কিনে যাওয়ার পরে দেখলাম দোকানের সামনের বাঁশের ব্যারিকেড খোলা হয়। আমি তখনও কিছু জানতাম না। আর ওই কালো পোশাক পরা ব্যক্তি আমাকে কিছুই বলেননি।'
বিহারের গয়ার বাসিন্দা বিক্রমের বাবা উত্তম সাউ বছর পনেরো আগে ঝাড়গ্রামে আসেন। তারপরে ফুটপাথে ঝালমুড়ির দোকান খোলেন। এখনও তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতাদেবী মাঝেমধ্যেই দোকানে এসে ছেলেকে সাহায্য করেন। রবিবারেও তাঁরা ছিলেন। তবে আপাতত খ্যাতি আর প্রচারের আলোয় চোখ ঝলসাচ্ছে তাদের। চাইছেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


