রবিবার ভোটের প্রচারের মাঝেই ঝাড়গ্রামে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে গাড়িতে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময়ে ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড়ে গাড়ি দাঁড় করান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে পড়েন বিক্রমকুমার সাউয়ের ঝালমুড়ির দোকানে। মানুষের ভিড়ে মিশে দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়াকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ের সভা থেকে মমতা বলেন, "এসপিজিকে দিয়ে ঝালমুড়ি তৈরি করিয়ে রেখেছে। দোকানের ভিতরে ক্যামেরা ফিট করা আছে। প্রধানমন্ত্রীর পকেটে ১০ টাকার নোট থাকে? সব নাটক! কখনও গুহায় চলে যান, কখনও বলেন আমি চা-ওয়ালা।"

রবিবার ভোটের প্রচারের মাঝেই ঝাড়গ্রামে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে গাড়িতে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময়ে ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড়ে গাড়ি দাঁড় করান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে পড়েন বিক্রমকুমার সাউয়ের ঝালমুড়ির দোকানে। মানুষের ভিড়ে মিশে দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেলেন। ভাগও করে দিলেন ছোটদের। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার বেড়াজাল ছেড়ে মানুষের মাঝে আসায় উচ্ছ্বসিত হল এলাকার মানুষ। সেই ভিডিও এখন ভাইরাল।

আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর কর্মসূচি ছিল বীরভূমের মুরারাইতে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের বহু নেতা কর্মীকে ভোটের আগেই গ্রেফতার করা হতে পারে। মমতা বলেন, "অনেককে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে। লিস্ট আমি পেয়ে গিয়েছি। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়ব। শুধু তৃণমূলকে টার্গেট করেছে। এই বীরভূম থেকে এক নেতা লড়ছে। কোটি কোটি টাকা কয়লা থেকে খায়। ভদ্রতা করে নাম বলছি না। সবচেয়ে বড় দুরাচারী বিজেপি।"

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইভিএম লুটের দায়িত্ব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় কর্মীদের এনিয়ে সজাগ থাকতে নির্দেশ তিনি। মমতা বলেন, "তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার। আমাদের কাছে খবর আসছে। গণনার মেশিনে যারা ভোট গুনতে যাবেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে রাখবেন। কেউ ১০০ পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে পাঁচ। দেখে নেবেন। যত ক্ষণ না কম্পিউটারে ভোট না তোলা হবে, কেউ হাল ছাড়বেন না। লড়ে যাবেন। যুদ্ধ জয় করতে হবে। অহঙ্কারের পতন হবেই। বাংলায় জিতে আমরা দিল্লি দখল করব। গণতন্ত্রের জয় হবে। যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করছ, আগামী দিনে যেখানেই থাকো, খুঁজে বার করব আর নারকেলের নাড়ু খাওয়াব।"

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “শান্তির জন্য লড়ুন, ভাষা-জাতিকে রক্ষা করুন, ভোটাধিকারের জন্য লড়ুন। তৃণমূল সরকার থাকলে আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। এ বারের ভোটটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।”