নবান্নে গিয়ে তাঁর সঙ্গে এ দিন দেখা করেছেন কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করার মাঝেই এমন দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁরা কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও দাবি করেন, এইভাবেই জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে ভাঙন ধরবে। 

এ দিন চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে জট কাটাতে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে সাংবাদিক বৈঠক করতে করতেই উঠে যান মমতা। তিনি বলে যান, কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। একটু পরেই ফিরে এসে মমতা দাবি করেন, কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক কাজে যোগ দিতে ইচ্ছুক। সেরকমই কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক নবান্নে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। যদিও তাঁরা এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক নন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা কোন মেডিক্যাল কলেজ বা হাসপাতাল থেকে এসেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানি তিনি। 

একই সঙ্গে তাৎপর্য্যপূর্ণ ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, 'যাঁরা কাজে যোগ দিতে চায়, তাঁদের সবরকম নিরাপত্তা দেবে সরকার। এভাবেই আস্তে আস্তে অনেকে কাজে যোগ দেবেন।' ফলে, জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন চিড় ধরবে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি অবশ্য খারিজ করে দিয়েছেন এনআরএসের আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল নবান্নে গিয়েছিলেন বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সত্যতাও নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, কোন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করুক রাজ্য সরকার। 

মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরেই ফের এনআরএসে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা। তার পরে লিখিত বিবৃতি দিয়ে তাঁরা বলেন, 'আজকের এই আন্দোলন সমস্ত ডাক্তার সমাজের লড়াই। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি আমরা অস্বীকার করছি। কোনও মেডিক্যাল কলেজ থেকে কোনও দল তাঁর কাছে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর আমাদের দাবির পর্যালোচনা করেননি। আমরা কথা বলতে চাইনি বলে মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করছেন, তা ঠিক নয়।  এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সাধারণ মানুষের জন্য এনআরএসে এসে উনি আলোচনায় বসুন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। উনি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।' এ দিনও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক রং নেই। কোনও রাজনৈতিক দল তাঁদের প্ররোচিত করছে না। এ দিন বিকেলও কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী এনআরএস হাসপাতালে গেলেও তাঁকে সেখানে বক্তব্য রাখতে দেননি জুনিয়র চিকিৎসকরা। 

মমতা অবশ্য এ দিন বার বারই চিকিৎসকদের কাজে ফেরার আহ্বাণ জানিয়েছেন। তাঁর সরকার কড়া বার্তা নিতে চায় না বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র চিকিৎসকদেক কেরিয়ারের কথা ভেবেই তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।