Nabanna Guidelines: চোরবাগানের ঘটনার পর কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোয় দুর্ঘটনা এড়াতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, আলো, অগ্নিনিরাপত্তা, বাজি ও ঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে কী কী নির্দেশ, জানুন।

চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসবের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় তারজন্য এখন থেকেই সচেতন নবান্না। দুর্গাপুজোর সময় চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্য়ু হয়েছিল। আহত হয়েছিল প্রচুর মানুষ। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই জাতীয় ঘটনা যাতে আসন্ন কালীপুজো আর দুর্গাপুজোয় না ঘটে তারজন্য এখন থেকেই সতর্ক শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আর সেই কারণেই দুর্ঘটনা এড়াতে জারি করা হয়েছে ১০টি নির্দেশিকা।

কালীপুজো আর জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে অগ্নি নিরাপত্তা, ঘাটের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা প্রতিটি ক্ষেত্রেই কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকাগুলি কার্তিক পুজো আর ছট পুজোর জন্যও কার্যকর বলে জানান হয়েছে।

এক নজরে দেখুন ১০টি নির্দেশিকাঃ

১. পর্যাপ্ত আলো:

থিমের স্বার্থে মণ্ডপে আলো-আঁধারি পরিবেশ করা যাবে না। মণ্ডপের ভিতরে, প্রবেশ-প্রস্থানের পথে এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের গোটা পথে যথেষ্ট আলো রাখতে হবে।

২. সমন্বয় বৈঠক:

৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, থানা, দমকল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করতে হবে।

৩. প্রবেশ-প্রস্থান ও মণ্ডপ পরিকল্পনা:

প্রতিটি মণ্ডপ ও ঘাটে নিরাপদে ঢোকা-বেরোনোর ব্যবস্থা আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। মণ্ডপের পরিকল্পনা মহকুমাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশ পর্যালোচনা করবে।

৪. ভিড় নিয়ন্ত্রণ:

প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। আগের দল বেরিয়ে গেলে তবেই পরের দলকে ঢুকতে দেওয়া হবে।

৫. পুলিশ মোতায়েন:

ভিড়ের পরিমাণ বুঝে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে।

৬. চিকিৎসা পরিষেবা:

বড় পুজোয় অ্যাম্বুল্যান্স এবং প্রতিটি মণ্ডপে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৭. অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা:

পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দমকলের সাহায্য পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. ঘাটের নিরাপত্তা:

বড় ঘাট ও মণ্ডপে প্রয়োজনমতো বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং ব্যারিকেড রাখতে হবে।

৯. বাজি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ:

মণ্ডপের আশপাশে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ। বেআইনি বাজি বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব বাজিতে উৎসাহ দিতে হবে। মাইকে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করতে হবে এবং শব্দবিধি মেনে সময়সীমা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। দোকান বা স্টল বসানোর ক্ষেত্রেও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথে বাধা তৈরি করা যাবে না।

১০. ছট ও নিরঞ্জন ঘাটের ব্যবস্থা:

ঘাট পরিষ্কারের জন্য বিশেষ দল এবং ভিজে-শুকনো বর্জ্য আলাদা রাখার বড় পাত্র রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলো, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিসিটিভি বসাতে হবে। মহিলাদের পোশাক বদলের পৃথক ঘর এবং গাড়ি রাখার জায়গা চাই। স্বেচ্ছাসেবকদের পুরসভার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। উৎসবের আগের দিন থেকে ছটের পরের দিন পর্যন্ত পুরসভার নিয়ন্ত্রণকক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।