কেউ বলছেন শহরের হাওয়া লেগেছে গ্রামেও,আবার কেউ বলছেন আসলে মোবাইল আর ইন্টারনেটের কাছে হার মেনেছে পেটকাটি- চাঁদিয়ালের টান। তাই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনও আশ্বিনের আকাশে দেখা মিলল না ঘুড়ির!অন্তত মুর্শিদাবাদের জেলা সদর বহরমপুরের আকাশে শরতের সাদা মেঘ ভেসে বেড়ালেও দেখা মিলল না রং, বেরংয়ের ঘুড়ির। শেষ কবে এমনটা হয়েছে, শহরের অনেক পুরনো বাসিন্দাও তা মনে করতে পারলেন না। 

গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছিল বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আকাশে ঘুড়ির সংখ্যা। এ বছর যেন আকাশ থেকে হারিয়েই গিয়েছে তারা। আকাশে ঘুড়ির সঙ্গে উধাও ভোকাট্টা চিৎকার বা লাটাই হাতে কিশোর, যুবকদের দাপাদাপি। পাড়ার দোকানে ঘুড়ি বা সাদা সুতোর চাহিদাও সেভাবে নেই। 

আরও পড়ুন- একাদশ শ্রেণির সুপর্ণার হাতে রূপ পেল বিশ্বকর্মা

তবে আকাশে ঘুড়ি না থাকলেও বিশ্বকর্মার পুজোর আনন্দে অবশ্য ভাঁটা পড়েনি জেলায়। বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পুজো বলেই আদতে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের বিশ্বকর্মা পুজো। বহরমপুরের পঞ্চাননতলায়  নারকেল ফাটিয়ে পুজোর সূচনা করেন বহরমপুরের বিধায়ক তথা অধীরের সেনাপতি হিসেবে পরিচিত মনোজ চক্রবর্তী। জরুরি কাজে অধীরবাবু জেলায় না থাকতে পারায় সরাসরি দিল্লি থেকে নির্দেশ দিয়ে পুজোর তদারকি করেছেন। পুজো উপলক্ষে এ দিন এলাকার ১০০০ দরিদ্র শিশুদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণও করা হয়। 

অধীরবাবু টেলিফোনে দিল্লি থেকে জানান,'আমি জরুরি কাজের জন্য এই পুজোয় উপস্তিত থাকতে পারলাম না। তবে সম্প্রীতি বজায় রেখে পুজোর আয়োজন করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। সেই সঙ্গে যাতে কেউ এনআরসি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় কোন বিভ্রান্তি না ছড়ায়, তার উপরও সতর্ক নজর রাখার জন্য দলীয় কর্মীদের বলেছি।'

বহরমপুরের মতো একেবারে আকাশ ফাঁকা না থাকলেও কান্দি,খরগ্রাম,ফরাক্কা,ধুলিয়ানের কিছু এলাকায় অল্প হলেও কিছু ঘুড়ি চোখে পড়ে। বিশ্বজিৎ হালদার নাম এক অভিভাবক বললেন,'সময়ের সঙ্গে ছোটদের ভালো লাগাও বদলাবে,তবে আমরা এই দিনটাই বাড়ির বাচ্চাদের মধ্যে ঘুড়ি উড়াতে উৎসাহ দিই,এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।' আর যাদের নিয়ে এত কথা, সেই খুদে বাপন,সোনাই,তিতাসদের সাফ কথা ‘স্কুল-টিউশন আর আঁকার ক্লাসের মাঝে ফাঁকা সময় কোথায় যে  ঘুড়ি ওড়াব! তাই  সময় পেলে মা বাবার মোবাইলেই একটু  গেম খেলি।'