নাগরিক সভ্যতার ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির শব্দ দিয়েই তৈরি এবারের থিম। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের হারিয়ে যাওয়া শব্দগুলিকে এক করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করছেন ক্লাবের সদস্যরা।

শব্দ। এবছর দুর্গাপুজোয় তাদের এই অভিনব থিম দিয়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাব। পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর সপ্তাহ দুই। তারপরেই মা দুর্গার আরাধনায় মাতবে বাংলা। আর সেই জোয়ারে গা ভাসিয়ে এ বছর থিম “শব্দ” দিয়ে দর্শনার্থীদের মাতাতে তৈরি এই ক্লাব।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নাগরিক সভ্যতার ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির শব্দ দিয়েই তৈরি এবারের থিম। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের হারিয়ে যাওয়া শব্দগুলিকে এক করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করছেন ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের কথায় এই শব্দগুলি আমাদের অস্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করত একসময়। কিন্তু এখন শহুরে বিশৃঙ্খলার মধ্যে যেন ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এগুলি। এই বছর ক্লাবের দুর্গাপুজো পা রাখল ৭২ বছরে।

একসময়, পাখির ডাক আমাদের দৈনন্দিন ছন্দের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ভোর হয়েছে তা জানান দেওয়া, আবার সন্ধ্যার সময় বাসায় ফেরার মুহুর্ত, পাখির ডাক আমাদের জীবনে মিশে ছিল অঙ্গাঙ্গী ভাবে। রাতের নীরবতার মধ্যেও, পেঁচা এবং নিশাচর পাখিরা তাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে নীরবতাকে ভেদ করত। কিন্তু আজ পাখিদের কিচিরমিচির শোনাই যায় না।

এই থিমের মাধ্যমে, ক্লাবটি তুলে ধরেছে যে দ্রুত নগরায়ণ, অবাধ বৃক্ষ নিধন এবং কংক্রিটের উঁচু ভবন নির্মাণ প্রাকৃতিক আবাসস্থলকে কীভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। আশ্রয়ের জন্য গাছের উপর নির্ভরশীল পাখিরা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে - এবং হারিয়ে যাচ্ছে তাদের কণ্ঠস্বরও। ক্লাবের এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির উপর মানবতার অনিয়ন্ত্রিত আধিপত্য আমাদের পরিবেশগত ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর খেসারত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চড়া মূল্যে দিতে হবে যদি না আমরা এখনই পদক্ষেপ নিই।

বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাব শব্দ থিমটি জীবন্ত করে তোলার জন্য, মন্ডপে একাধিক আকর্ষণীয় উপস্থাপনা প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ ফুট লম্বা পাখির একটি সুউচ্চ শৈল্পিক উপস্থাপনা - যা প্রকৃতির মহিমা এবং আমাদের নগর জীবনে এর অদৃশ্য উপস্থিতির প্রতীক। যথার্থ সাউন্ডস্কেপ দিয়ে সাজানো। এরই সঙ্গে থাকবে মাইম পরিবেশনা। পাখিদের অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বর এবং মানবজাতির কাছে তাদের নীরব আবেদন তুলে ধরবেন মাইম শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগুইআটি রেলপুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের কমিটির সদস্য শ্রী গৌরব বিশ্বাস বলেন, “আমাদের থিম ‘শব্দ’ কেবল একটি শৈল্পিক সৃষ্টিই নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত বিবেকের প্রতিচ্ছবি। পাখি এবং প্রকৃতির শব্দ, যা একসময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য ছিল, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এই থিমটির মাধ্যমে আমরা সমাজকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে এই কণ্ঠস্বরগুলি কেবল পটভূমি সঙ্গীত নয়; এগুলি আমাদের পরিবেশের হৃদস্পন্দন। যদি আমরা এর পুনরুদ্ধারের কাজ না করি, তাহলে আগামীকালের পৃথিবী আরও নীরব হয়ে যাবে। আর সেই কারণেই দুর্গাপুজোর থিম হিসবে এই ‘শব্দ’কে বেছে নিয়েছি। কারণ দুর্গাপুজো কেবল উদযাপনের বিষয় নয়, বরং সচেতনতা, দায়িত্ব এবং মানবতার জাগরণের বিষয়ও।”

“শব্দ”-এর থিমটি ধারণাগত এবং শৈল্পিকভাবে ডিজাইন করেছেন সোমনাথ তামলি, পাশাপাশি দেবী মূর্তিটি ভাস্কর্য করছেন দেবপ্রসাদ হাজরা। আলো এবং ছায়ার মোহনীয় খেলা পরিচালনা করবেন দীপঙ্কর দে। পাখিদের নীরব ডাকে সুর দিতে, মূকাভিনয় শিল্পী শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং কৌশিক বিশ্বাস তাঁদের শৈল্পিক পরিবেশনা করবেন। বাপি দাসের দক্ষতায় এই দুর্দান্ত প্যান্ডেলটি তৈরি করা হচ্ছে। সমীরন জানা এই দুর্দান্ত সৃষ্টির প্রতিটি বিবরণ ধারণ করার জন্য চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা পরিচালনা করছেন। গবেষণার কাজ সহ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপায়ন করছেন পৌলমী বোস, অঙ্কন ও নকশায় ফারুক শেখ এবং শব্দ ও সঙ্গীতে দেবায়ন ব্যানার্জি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।