Chorbagan Incident: চোরবাগান দুর্ঘটনায় কেন আহতদের তড়িঘড়ি শহরের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হল? চোরবাগান কাণ্ডে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক বিরোধীদের কড়া জবাব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। কী বলেছেন তিনি? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Chorbagan Incident: চোরবাগান দুর্গাপুজোয় পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে বিরোধীদের কড়া জবাব দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো কোনও রেফার নয় বরং তাঁদের পরিবারের ইচ্ছাতেই সরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি নথিতেও রেফার এর পরিবর্তে শিফট কথাটি উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের দুর্ঘটনায় আহতদের প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলে এবং রাত ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে প্রত্যেককে স্থিতিশীল করা হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী আহতদের পরিবারের সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। পরিবারের সদস্যরা কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁদের অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় বলে দাবি তাঁর।

বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর আশা, চিকিৎসা চলার পর খুব শীঘ্রই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।এদিকে মেডিক্যাল কলেজের একদল পড়ুয়ার তরফে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘’অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে জানাতে হবে। তাঁর বক্তব্য, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, সংশ্লিষ্টদের সরাসরি এসে নিজেদের বক্তব্য ও তথ্য তুলে ধরতে হবে।''

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা অর্জন করতে পড়ুয়াদের এখনও অনেক পথ চলতে হবে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে তা তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কী বললেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী?

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএমের মতো হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি এবং অধিকাংশ সময়ই শয্যা ভর্তি থাকে। তা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতাল থেকে বহু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান তিনি।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং মৃত্যুহার নিয়ে তুলনা করতে হলে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আলোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও মৃত্যুহার সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবার ‘রেফার’ এবং ‘শিফট’ শব্দের পার্থক্যের উপর জোর দেন। তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীদের স্থিতিশীল করা হয়েছিল এবং পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী তাঁদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চোরবাগান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা, সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং রোগীদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের আবহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীদের স্থানান্তরের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা জরুরি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।