- Home
- West Bengal
- Kolkata
- সোমবার থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বকেয়া ডিএ-র টাকা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্নর বড় চমক!
সোমবার থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বকেয়া ডিএ-র টাকা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্নর বড় চমক!
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকেই অনেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড়সড় চমক দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে।
গত ১৩ই মার্চ অর্থ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
পেমেন্টের সময়সীমা ও কিস্তি: সুপ্রিম কোর্টের গত ৫ই ফেব্রুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১শে মার্চের মধ্যে বকেয়া টাকার একটি অংশ (২৫ শতাংশ) মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশ মেনে নবান্ন জানিয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি এই বছরের মার্চ মাসেই প্রদান করা হচ্ছে এবং দ্বিতীয় কিস্তিটি দেওয়া হবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। সোমবার থেকেই অনেক কর্মীর জিপিএফ বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কারা কীভাবে টাকা পাবেন?
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি (Memo No. 996-F) অনুযায়ী, কর্মীদের পদের ভিত্তিতে টাকা পাওয়ার পদ্ধতি আলাদা হবে:
গ্রুপ এ, বি এবং সি: এই তিন স্তরের কর্মীদের বকেয়া ডিএ সরাসরি তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে শর্ত হলো, এই টাকা আগামী ২৪ মাসের আগে তোলা যাবে না, যদি না কর্মী এর মধ্যে অবসর গ্রহণ করেন।
গ্রুপ ডি ও পেনশনভোগী: চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে জমা হবে।
অন্যান্য সংস্থা: সরকারি কর্মচারী ছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই বকেয়া ডিএ-র সুবিধা পাবেন।
প্রশাসনিক তোড়জোড়: অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জারি করেছে। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (HRMS) মডিউলের মাধ্যমে বিল তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এমনকি ছুটির দিনেও অর্থ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলি কাজ করছে যাতে ৩১শে মার্চের ডেডলাইনের মধ্যে অধিকাংশ কর্মীর কাছে টাকা পৌঁছে যায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক কয়েক মিনিট আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ডিএ প্রদানের কথা ঘোষণা করেছিলেন। যদিও বিরোধী দলগুলি একে 'ভোটের গিমিক' বলে কটাক্ষ করেছে, তবুও প্রায় ১২ লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের পরিবারে এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া।
বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালানো কর্মী সংগঠনগুলি একে তাঁদের ধৈর্যের জয় হিসেবেই দেখছেন। তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করা মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

