- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বকেয়া ডিএ দিতে শুরু করল নবান্ন: অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা, কারা পাবেন না?
বকেয়া ডিএ দিতে শুরু করল নবান্ন: অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা, কারা পাবেন না?
সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। গত শুক্রবার থেকে অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হলেও কর্মরতদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। জানুন বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট।

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পরিশোধের প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু করল নবান্ন। রাজ্যের অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, গত শুক্রবার (২৯ মে, ২০২৬) থেকেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট অংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি জমা পড়তে শুরু করেছে।

আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার প্রথম ধাপে মূলত ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবসর গ্রহণকারী প্রাক্তন কর্মীদের বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ অবসরপ্রাপ্তদের প্রদান করা হয়েছিল, ফলে এবারের পদক্ষেপটি দ্বিতীয় দফার অন্তর্ভুক্ত।
তবে এই সুখবরের মধ্যেও কিছু ধোঁয়াশা ও বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নবান্ন স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখনই কোনো বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না। তাঁদের বকেয়া কবে মিটবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি।
এমনকি কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এখনই এই সুবিধা পাচ্ছেন না। ট্রেজারির মাধ্যমে পেনশন প্রাপক জেলাস্তরের কর্মীদের ডেটা তৈরি থাকলেও, কলকাতার কর্মীদের তথ্য ‘এজি বেঙ্গল’ (AG Bengal)-এর থেকে পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে।
এ ছাড়া, সরকারি নিগম ও সংস্থাগুলোর কর্মীদের তথ্য সংগ্রহের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে।
এই আবহে আজ, সোমবার (১ জুন) নবান্নে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডিএ আন্দোলনকারী ‘যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ’ এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কর্মচারীদের আশা, এই বৈঠকেই কর্মরত কর্মীদের বকেয়া মেটানো এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ডিএকে কর্মীদের আইনসিদ্ধ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং সরকারকেও স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, গত ১৮ মে রাজ্য ক্যাবিনেট সপ্তম বেতন কমিশন (7th State Pay Commission) গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আজকের বৈঠক থেকে নতুন বেতন কমিশনের কাঠামো এবং ডিএ জট কাটাতে ঐতিহাসিক কোনো সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী।

