IPS Supratim Sarkar News: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। তারই মধ্যে এবার পুলিশ অফিসার বদলি নিয়ে বড় আপডেট নির্বাচন কমিশনের। ভিনরাজ্যে যেতে নারাজ আইপিএস অফিসার সুপ্রতিম সরকার। কী বলছেন তিনি? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…
IPS Supratim Sarkar News: দক্ষিণে যেতে মোটেও রাজি নন আইপিএস সুপ্রতিম সরকার। ভোটের আগেই নবান্নের পুনর্বহাল বাতিল করে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন পদে বদল এনেছে নির্বাচন কমিশন (National Election Commission)। কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকেই আগেই তাকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। এবার তাকে তামিলনাড়ুর পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে কাজ যোগদান করার নির্দেশ দিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যদিও সূত্র মারফত খবর, তামিলনাড়ুতে যেতে রাজি নন সুপ্রতিম সরকার। চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে ডিউটি থেকে অব্যহতি চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের ক্যাডারভুক্ত ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসার তথা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে বিশেষ দায়িত্ব দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। তাঁকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য 'পুলিশ পর্যবেক্ষক' (Police Observer) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
তামিলনাড়ুর কয়টি বিধানসভার দায়িত্ব সামলাবেন সুপ্রতিম?
সুপ্রতিম সরকার তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলার অধীনে থাকা পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাবেন। এই কেন্দ্রগুলি হলো— তিরুনেলভেলি, আম্বাসমুদ্রম, পালায়মকোট্টাই, নাঙ্গুনেরি এবং রাধাপুরম। ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২০বি ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পর্যবেক্ষক থাকাকালীন তিনি সরাসরি কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে প্রশংসাপত্র বা কোনও বদলি সংক্রান্ত নির্দেশ দিতে পারবেন না। কোনও আধিকারিকের কাজ প্রশংসনীয় মনে হলে বা কোনও বিচ্যুতি নজরে এলে, তা সরাসরি কমিশনকে জানাতে হবে।
নির্বাচন চলাকালীন তিনি কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার অধীনে থাকবেন এবং তাঁকে ডেপুটেশনে থাকা আধিকারিক হিসেবে গণ্য করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁকে অবজার্ভার পোর্টালে নিজের ছবি ও তথ্য আপলোড করে আইডি কার্ড সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নবান্নের পুনর্বহালও বাতিল। ১৫ আইপিএস অফিসারকে ভিন্রাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন। ভোটের মুখে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের যেসব আইপিএস আধিকারিককে আগে সরানো হয়েছিল এবং পরে রাজ্য সরকার অন্য দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছিল, সেই সিদ্ধান্তই এবার বাতিল করে দিল কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে ভিন্রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে খবর, অবিলম্বে তাঁদের নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে হবে। তালিকায় রয়েছেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুরলী ধর, মুকেশ, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা, রশিদ মুনির খান এবং সইয়দ ওয়াকার রাজা।
জানা গিয়েছে, এঁদের অধিকাংশকেই তামিলনাড়ু ও কেরলের নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন— যেমন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কমিশনের পর্যবেক্ষক হিসেবে যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, এই আধিকারিকদের অনেকেই সেই তালিকায় ছিলেন না। ফলে প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের হঠাৎ করে এই দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করতেই এই পদক্ষেপ। যদিও অন্য মহলের দাবি, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে এই বড় রদবদল নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়িয়ে দিল।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


