- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বকেয়া DA-তে বড় কাটছাঁট! সকলে পাবেন না টাকা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় আপডেট নবান্নের!
বকেয়া DA-তে বড় কাটছাঁট! সকলে পাবেন না টাকা? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় আপডেট নবান্নের!
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন। তবে এই খুশির খবরের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নবান্নের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির পর প্রশ্ন উঠছে—রাজ্যের সকল পর্যায়ের কর্মচারীরা কি আদৌ এই বকেয়া টাকা পাবেন?

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। গত ১৩ মার্চ অর্থ দপ্তর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে (৯৯৬-এফ এবং ৯৯৭-এফ) জানানো হয়েছে যে, এই দীর্ঘ সময়ের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে কয়েকটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থ দপ্তরের নতুন পোর্টাল ও এসওপি (SOP): বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ দপ্তর একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করেছে এবং ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র হিসাব ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (HRMS) মডিউলের মাধ্যমে সরাসরি প্রস্তুত করা হবে।
টাকা পাওয়ার নিয়মাবলী: নবান্নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ দুটি কিস্তিতে দেওয়া হবে—প্রথমটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি সেপ্টেম্বর মাসে।
টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মচারীদের শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে:
১. গ্রুপ এ, বি এবং সি পর্যায়ের কর্মচারীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই টাকা পরবর্তী ২৪ মাসের আগে তোলা যাবে না।
২. গ্রুপ ডি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে প্রদান করা হবে।
কেন অনিশ্চয়তায় একাংশ কর্মচারী?
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের (Grant-in-Aid Institutions) কর্মচারীদের নিয়ে। রাজ্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরাও এই বকেয়া ডিএ-র দাবিদার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ মার্চ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁদেরও বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পোর্টালে শুধুমাত্র সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই তথ্য আপলোড করতে পারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অর্থ দপ্তর থেকে জারি করা ৯৯৮-এফ মেমোরান্ডামে জানানো হয়েছে যে, এই সব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে দ্রুত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে এবং তাঁদের জন্য বকেয়া প্রদানের পদ্ধতি বা মোডালিটি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।
আর এই ‘পরবর্তীতে’ শব্দটি নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে কর্মী মহলে। সিপিএম অনুমোদিত কো-অর্ডিনেশন কমিটি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে অর্থসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের এখনই বকেয়া না দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
নবান্ন সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, রাজকোষের আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে সকলকে বকেয়া দেওয়া হবে। ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, শিক্ষা ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরা নির্বাচনের আগে এই টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

