‘স্বয়ম্বর: ৫০+ ম্যাচমেকিং, বিবাহ এবং সঙ্গ’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি ২০২৬ সালে কলকাতায় তার ১১তম বছরে পড়বে। এই বছর অনুষ্ঠানটি বরানগরের কুঠিঘাটে গঙ্গার তীরে অবস্থিত পুরনো বাগানবাড়ি ‘একান্ত’-তে অনুষ্ঠিত হবে।

কেউ ইচ্ছা করেই বিয়ে করেননি, কেউ পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের বিয়ের জন্য ভাবতে পারেননি, কারও স্ত্রী বা স্বামী বহুদিন মারা গিয়েছে। কলকাতা শহরে এমন প্রবীন নাগরিকের সংখ্যা কয়েক হাজার। এই প্রবীন নাগরিকদের মধ্যে অনকেরই দেখার কেউ নেই, কথা বলার কেউ নেই, পাশে থাকার কেউ নেই। অনেকেই সে কারণে একাকীত্বে ভুগছেন। যদি এমন হত যে এই প্রবীণদের মধ্যে যারা আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেন, তাহলে কথা বলা, সুখে দুঃখে পাশে থাকার লোক পাওয়া যেত। হ্যাঁ, এবার সেটিই হতে চলেছে। গঙ্গার তীরে একটি বাগানবাড়িতে বসতে চলেছে এরকম অনেক প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গী খোঁজার আসর। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে অন্তত ৬০ জন মিলিত হতে পারেন ১৪ সেপ্টেম্বর ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে। যাদের মধ্যে কেউ প্রবীণ নাগরিক এবং কেউ সেই বয়সের কাছাকাছি। তাঁরা ভালবাসা দিবসে ভালবাসার সন্ধানে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চলেছেন।

প্রতি বছর ৫০ বছরের বেশি বয়সী কলকাতার বাসিন্দারা এমন একটি অনুষ্ঠানে নাম লেখান, যা আধুনিক ডেটিংয়ের নানা শব্দের কোলাহলের মধ্যেও পুরনো দিনের রোমান্স এবং ভালবাসার শিল্পে বিশ্বাসী এই শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি ‘স্বয়ম্বর’ হিসেবে পরিচিত। অল ইন্ডিয়া সিনিয়র সিটিজেন কনফেডারেশনের অধীনে নিবন্ধিত একটি এনজিও ‘ঠিকানা সিমলা’-র আয়োজকদের মতে, এই অনন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই একাকীত্ব এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁরা এমন কারও সঙ্গ কামনা করেন, যাকে পরিবার বলে ডাকতে পারেন। আয়োজকদের মতে, কলকাতায় প্রায় দেড় কোটি প্রবীণ নাগরিক বাস করেন। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, শহরে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা ছিল ১১.৭৬ শতাংশ। তবে গত ১৫ বছরে এই সংখ্যা আরও বেড়ে থাকতে পারে। টেলিগ্রাফ অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ঠিকানা সিমলা’-র প্রতিষ্ঠাতা অমিতাভ দে সরকার বলেন, অনেক বয়স্ক মানুষের জন্য, আত্মীয়স্বজন এবং বর্ধিত পরিবার সঙ্গীর অভাব পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না।

‘স্বয়ম্বর: ৫০+ ম্যাচমেকিং, বিবাহ এবং সঙ্গ’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি ২০২৬ সালে কলকাতায় তার ১১তম বছরে পড়বে। এই বছর অনুষ্ঠানটি বরানগরের কুঠিঘাটে গঙ্গার তীরে অবস্থিত পুরনো বাগানবাড়ি ‘একান্ত’-তে অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলবে। ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৬০ জন অংশগ্রহণকারী — ৩০ জন পুরুষ এবং ৩০ জন মহিলা — যারা অবিবাহিত, বিধবা, বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত বা বিচ্ছিন্ন, তাঁরা এতে অংশ নেবেন। অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন এবং গান ও নাচের মতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে পারবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই বছর সাড়া ছিল অভাবনীয়, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৬০টি আসন পূর্ণ হয়ে গেছে। অংশগ্রহণকারীদের একটি স্ব-ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে এবং ৩০০ টাকা ফি দিতে বলা হয়েছিল। বাকি কথাবার্তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হয়েছে।