- Home
- West Bengal
- Kolkata
- TMC Case: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় প্রথম দফার শুনানি, কালীঘাট না ঋতব্রত—কার পক্ষে গেল পরিস্থিতি?
TMC Case: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় প্রথম দফার শুনানি, কালীঘাট না ঋতব্রত—কার পক্ষে গেল পরিস্থিতি?
TMC Bank Account Case:তৃণমূলের ফ্রিজ় হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় স্বস্তিতে কালীঘাট! স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ হাই কোর্টের। বিচারপতির পাল্টা প্রশ্নে অস্বস্তিতে রাজ্য, জানুন বিস্তারিত।

ফ্রিজ় হওয়া অ্যাকাউন্টে আপাতত স্বস্তি
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় হওয়ার মামলায় আপাতত স্বস্তি পেল কালীঘাট তৃণমূল। প্রয়োজনে ওই তিনটি ফ্রিজ় হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা ও আইনি খরচ ব্যবহার করতে পারবে তারা, তবে অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালনার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকছে না।

স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ আদালতের
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছে হাই কোর্ট। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবেন এবং দলের দৈনন্দিন খরচের টাকা মেটাবেন, তবে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই।
বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন — অ্যাকাউন্টও কি ‘সম্পত্তি’?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে পাওয়া যে কোনও সম্পত্তি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করতে পারে, তাহলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও কি সেই সম্পত্তির আওতায় পড়ে না?
সিঙ্ঘভির পাল্টা সওয়াল
কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য আগে থেকে গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকা প্রয়োজন। একটি অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
কিশোর দত্তের বক্তব্য
কালীঘাট তৃণমূলের অপর আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, দলের দৈনন্দিন খরচের বিস্তারিত বিবরণ ইতিমধ্যেই হলফনামায় জমা দেওয়া হয়েছে।
‘আসল তৃণমূল’ দাবি নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের সওয়াল
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবির অর্থাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়দের আইনজীবীর দাবি, তাঁদের দলত্যাগী বলা হলেও তাঁরাই আসল তৃণমূল এবং দলের অধিকার তাঁদেরই প্রাপ্য।
আদালতের কড়া মন্তব্য
থানায় অভিযোগ জানানোর সময়ে এই দাবি না তোলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির মন্তব্য, বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান এখন সুযোগসন্ধানীর মতো মনে হচ্ছে, এবং কে আসল তৃণমূল তা আদালত বিবেচনা করবে না — এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত।
রাজ্যের সওয়াল ও বিচারপতির প্রতিপ্রশ্ন
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আগেই একাধিক ব্যক্তির বিবৃতি ও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। এর জবাবে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশের কাছে ৭০টি অভিযোগ থাকলেও ডেবিট বন্ধের মতো পদক্ষেপের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রমাণ কোথায়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি এখনই প্রতিষ্ঠিত নয়
বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যাকাউন্ট পরিচালনার কোনও অধিকার দাবি করেনি বলে এই মুহূর্তে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। আগে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করে তবেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের।
মামলার সূত্রপাত ও পরবর্তী শুনানি
১৮ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার প্রতারণার সন্দেহে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে পুলিশ। কালীঘাট তৃণমূল অ্যাকাউন্টের টাকা কোনও বড় বা অস্বাভাবিক খাতে ব্যয় করতে পারবে না বলে স্পষ্ট করেছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর।
