West Bengal Assembly Election 2026: তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) হওয়ার কথা। ২০২১ সালে আট দফায় বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে।

West Bengal Assembly Election 2026: তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) হওয়ার কথা। ২০২১ সালে আট দফায় বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার যদিও সেই পথে হাঁটতে চাইছে না মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিদের দফতর। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন এক দফাতেই করতে চায় তারা। এনিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তারা প্রস্তাব দিতে পারে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন। যদিও বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। সিইও দফতর মনে করছে, রাজ্যে আগেও এক দফায় ভোট হয়েছে। এবার হলে অসুবিধার কিছু নেই। এদিকে, বাংলার বিরোধী দলগুলি অবশ্য় ক দফায় ভোট হবে তা নিয়ে চিন্তা করছে না। তারা মাথাব্যথা ভোট শান্তিপূর্ণ হবে কি না। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হলে ভোট এক দফাতে হওয়া নিয়ে তাদের আপত্তির কিছু নেই। যদিও এনিয়ে শঙ্কা একটা থাকছেই।

করোনাকালে ২০২১ সালে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিলনাড়ুতে যদি এক দফায় ভোট হতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গে কেন আট দফা প্রয়োজন? নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপিকে নিশানা করেছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে সাত দফায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। ২০১১ সালে বিধানসভা ভোট হয়েছিল ছ’দফায়। সেই বছরেই বামেদের হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের জোট। যদিও পরে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে যায় কংগ্রেস।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য বিহারে এক দফায় বিধানসভা ভোট করিয়েছে কমিশন। তাই এখানেও এক দফাতেই ভোট করানোর কথা শোনা গিয়েছে রাজ্যের শাসকদলের তরফে। যুক্তি হিসেবে এপ্রিল ও মে মাসের গরমের কথা বলেছে তৃণমূলের নেতারা। যদিও ভোটে হিংসা নিয়ে সরব বিরোধী দলগুলি। এক দফায় ভোট হলে সেই অশান্তি বা হিংসার সুযোগ কম থাকবে বলেই মনে করছেন একাংশ। তবে সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা জরুরি। কারণ অতীতে বাংলায় যে কোনও ভোটেই ছোট বড় হিংসা হয়েছে। বোমাবাজি, হুমকি দেওয়া-সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় এক দফায় ভোট করানো হলে বাহিনী পাওয়া যাবে? প্রশ্ন থাকছে সেই নিয়েও।

কংগ্রেস কী মনে করছে

এদিন এক দফা ভোট নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচকে। তিনি বলেন, এত বড় রাজ্যে ক দফায় ভোট হবে তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। তবে এই রাজ্যে ভোটের সময় ভোট লুঠ, রক্তপাত, খুন, বুথ লুঠ, বুথ জ্যামের ইতিহাস আছে। তাই নির্বাচন কমিশন একদিনে ভোট করাতে পারবে বলে আমরা মনে করি না। মানুষকে ভোট দিতে দিতে হবে, বাধাহীন ভাবে যাতে মানাষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তাতে ভোট এক দফায় হোক বা পাঁচ দফায় হোক বা দশ দফায় হোক।'

এক দফাতেই সওয়াল সুজনের

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য বেশি দফায় ভোট হওয়ার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দাবির কারণেই নাকি এত দফায় ভোট হয় বাংলায়, এটাই সুজনবাবু দাবি করেন। সুজনবাবু বলেন, 'বাংলায় এক দফাতে ভোট হওয়ার রেওয়াজ ছিল। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ভোটের দফা বৃদ্ধির দাবি জানান। সেটাই নির্বাচন কমিশন চাপিয়ে দিয়েছিল। যেটা সমীচীন ছিল না। তাতে কিছু বাড়তি সুবিধা হয়েছে বলেও মনে করি না। শাসকদল দুষ্কৃতীদের ঘাড়ে নিয়ে চলবে নাকি দমন করে চলবে। রাজ্যের শাসকদল যেভাবে চলছে সেটাই আসলে নির্ভর করছে। এক দফায় ভোট হওয়াতে আমাদের কোনও আপত্তি আগেও ছিল না, এখনও নেই।'

নিরাপত্তার দাবি বিজেপির

বিজেপির নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, 'রাজ্যের ভোটার, ভোটকর্মী, বিরোধী দলগুলির কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। ভোট দ দফাতে হবে তা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমাদের বক্তব্য় হল ভোটারদের যেন চমকানো, ধমকানো, শাসানো না হয়। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।'