Kunal Ghosh: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি, তখন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানালেন যে দল INDIA জোটের প্রতি দায়বদ্ধ। তাঁর কথায়, বিজেপির 'জনবিরোধী নীতি'-র বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল একসঙ্গেই লড়বে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন একের পর এক বিতর্কে পরিস্থিতি টালমাটাল, ঠিক তখনই দলের ভাবমূর্তি স্থিতিশীল রাখতে আসরে নামলেন বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দল INDIA জোটের প্রতি তার আদর্শগত অবস্থানেই অবিচল এবং বিজেপির 'জনবিরোধী নীতি'-র বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুণাল ঘোষ ইঙ্গিত দেন যে, দলের কৌশল জাতীয় স্তরের শরিকদের সঙ্গেই থাকবে। তিনি বলেন, "আমাদের INDIA জোটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল একসঙ্গেই কাজ করবে।"

কল্যাণ প্রসঙ্গে কুণাল
দলের আরেক নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও নিজের আস্থা প্রকাশ করেছেন কুণাল। তিনি বলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কার মামলা লড়বেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁর আছে। এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা যায় না। তিনি আমাদের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তাঁর মূল্যায়ন নিয়ে আমি কোনও বিরোধিতা বা মন্তব্য করছি না।"দলের মধ্যে যে বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই সিনিয়র নেতা।
কুণাল আরও বলেন, "যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। এই লোকেরা তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছে। ওদের উচিত নিজেদের এলাকার পার্টি অফিসে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মুখোমুখি হওয়া।" দলের সদস্যদের আনুগত্য বদলের যে খবর ছড়াচ্ছে, সে বিষয়েও কথা বলেন কুণাল। সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিমা দল ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
সায়নী প্রসঙ্গে কুণাল
সাংসদ সায়নী ঘোষের মাস্ক পরা একটি ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে কুণাল বলেন, ওই ছবি সম্ভবত করোনা মহামারীর সময়ের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমি সায়নী ঘোষের যে ভিডিও দেখেছি, সেখানে একজনকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এই ভিডিওটি করোনা সময়ের হবে, কারণ সাধারণত কেউ এমনটা করে না। লুকানোর কী আছে?"
এই মন্তব্য এমন সময় কুণাল করেছেন, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একাধিক পদত্যাগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়
এই বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন হল, দলের সিনিয়র সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি আইনি বিষয় নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন এবং তাঁর "ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব"-এর অভিযোগ তোলেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরমসীমা দিয়ে বলেন, ভাইপো অভিষেক এবং তাঁর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তিনি এও ঘোষণা করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আর কোনও আইনি মামলায় তিনি দাঁড়াবেন না।
এর মধ্যেই রাজ্যসভা থেকে একের পর এক সাংসদের পদত্যাগের ঘটনাও ঘটছে। বুধবার তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক উচ্চকক্ষ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়ও পদত্যাগ করেছিলেন, যা এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় পদত্যাগের ঘটনা।
এদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে, ২০ জন সাংসদের একটি দল লোকসভায় আলাদা বসার ব্যবস্থা চেয়েছে এবং NDA-কে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে।
তবে, তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এই খবরের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোকে অস্বীকার করেছেন এবং বিদ্রোহী শিবিরকে তাঁর স্বাক্ষর সহ কোনও নথি দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকবেন।


