রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ২০২১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করেছিলেন। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে মাসে ১৫০০ টাকা করে পান। আর তফশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পান।

রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ২০২১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করেছিলেন। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে মাসে ১৫০০ টাকা করে পান। আর তফশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পান। কিছুদিন আগেই রাজ্য বাজেটে ৫০০ টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কের একটা বড় অংশ হল মহিলা। আর সেটার মূল কারণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা শোনা যায়। অনেকেই এই প্রকল্পকে ভোট কেনার সঙ্গে তুলনা করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, মাসে মাসে টাকা দিয়ে মহিলাদের মুখ বন্ধ রাখে সরকার। তাদের আরও বক্তব্য, এই রাজ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে অনেক হিংসার ঘটনা ঘটে। যে রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নেই, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। শাসকদলের অনেক নেতা নেত্রীকেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে ভোট চাইতে দেখা গিয়েছে অতীতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই রাজ্যের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ফেরানোর আবেদন করেন। কিন্তু তাঁরা রাস্তা দেখাতে পারেন না। আসলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদনের বিষয়টি জানেন, কিন্তু ফেরানোর বিষয়টি জানেন না। আজকে আমরা জানব কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ফেরাবেন।

আগে জেনে নিন কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন করবেন

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বিষয়ে বিশদে জানা যাবে wbcdwdsw.gov.in এই ওয়েবসাইটে। এখান থেকে ফর্মও পাওয়া যাবে। ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্টআউট করতে হবে। এরপর পূরণ করে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে বা বিডিও অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতে আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীকে নিশ্চিত করতে হবে তিনি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা, পৌরসভা বা পঞ্চায়েত ইত্যাদির স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা নিয়মিত বেতন/পেনশনপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন। আবেদনপত্রের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (অপশনাল), আধার কার্ড, প্রযোজ্য হলে এসসি/এসটি প্রমাণপত্র, ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের বিবরণ, রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিতে হবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফেরাবেন কীভাবে?

দেখুন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফেরানোর নিয়ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকারি ভাবে এখন পাওয়া যায়নি। কোথায়, কীভাবে আবেদন করতে হবে সে সম্পর্কে তথ্য নেই। তবে, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে বিডিও বা এসডিও অফিসে বা কেএমসি (শহরাঞ্চল) অফিসে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে। গিয়ে আবেদন করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে নাম মুছে ফেলা যাবে। এর জন্য লাগবে আবেদন পত্র। তাতে কারণ জানাতে হবে। এছাড়াও, প্যান কার্ডের জেরক্স, আধার কার্ডের জেরক্স, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ছবি জমা দিতে হবে। আবেদন গৃহীত হলেই সরকারি পোর্টাল থেকে আপনার নাম মুছে ফেলা হবে। তারপর থেকে মাসে মাসে টাকা পাবেন না।