তাঁদের জমিতেই গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম বেসরকারি বিমাননগরী। দুর্গাপুরের অন্ডাল থেকে এখন আকাশপথে  দিল্লি, মুম্বই, এমনকী, হায়দরবাবাদেও যাওয়া যায়। কিন্তু বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন জমিদাতারাই!  কথা রাখেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বুধবার কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের যাওয়ার প্রধান রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হলেন হাজার খানেক জমিদাতা, বর্গাচাষী ও আইটিআই ট্রেনিং প্রান্ত বেকার যুবক-যুবতীরা।  ঘণ্টা খানেক ধরে চলে বিক্ষোভ। শেষপর্যন্ত বিডিও-র আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি দাওয়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য সাতদিন সময় চেয়েছেন অন্ডালের বিডিও ঋত্বিক হাজরা। 

রাজ্যে তখন ক্ষমতায় বামেরা। ২০০৮ সালে দুর্গাপুরের অন্ডালে দেশের প্রথম বেসরকারি বিমাননগরী তৈরির জন্য ২৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার।  জমিদাতাদের দাবি, স্রেফ আর্থিক ক্ষতিপূরণই নয়, বিমাননগরীর ভিতরে এক কাঠা উন্নত মানের জমি ও বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিমাননগরীর জন্য জমি দিতে আপত্তি করেননি কেউই।   জমি অধিগ্রহণের পর সিঙ্গাপুরে একটি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে অন্ডালে বিমানবন্দর তৈরির কাজে নেমে পড়ে এদেশেরই একটি সংস্থা। অন্ডালে বিমানবন্দর তৈরির কাজ যখন শেষ হয়, ততদিনে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এ দেশের প্রথম বেসরকারি বিমানবন্দরের  উদ্বোধনও করেছেন তিনিই। অন্ডালের বিমানবন্দরটির নাম দেওয়া হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর।  এই বিমানবন্দর থেকে এখন দেশে নানা প্রান্তে বিমান চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। বেসরকারি স্কুল-সহ বেশ কয়েকটি আবাসন প্রকল্পও  হয়েছে অন্ডালে। 

জমিদাতাদের বক্তব্য, দু'একটি বাদে তেমন কোনও প্রকল্প আসেনি অন্ডাল বিমাননগরীতে। এমনকী, জমি নেওয়া যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও পূরণ করেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।  বিমাননগরীতে চাকরি পাওয়ার আশায় আইটিআই-এর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এলাকার অনেক বেকার যুবক-যুবতীই। কিন্তু আজ পর্যন্ত একজনও চাকরি পাননি। এরই প্রতিবাদে অন্ডাল বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রধান রাস্তা আটকে বিক্ষোভে শামিল হন জমিদাতারা।