শওকত মোল্লার হাত ধরে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী সীমা ভট্টাচার্য তৃণমূলে যোগ দিলেন। ভোটের আগেই আরও শক্তিশালী হল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য়দিকে নির্বাচন কমিশনকে তোপ শওকত মোল্লার। স্বামী স্ত্রী একত্র থাকতে গেলে নির্বাচন কমিশনারের পারমিশন নিতে হবে টিএমসি প্রার্থীর। 

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই শক্তি হারাচ্ছে হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি। এবার ভোটের মুখেই প্রার্থীর দলবদল। তাও আবার ভাঙড়ে। যা ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন রঙ দেবে বলেও মনে করেছেন স্থায়ীনরা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে নতুন মোড়। ভাঙড়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী সীমা ভট্টাচার্য শওকত মোল্লার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। যোগদান পর্বেই তিনি শওকত মোল্লাকে নিজের ‘গুরু’ বলে সম্মান জানিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন , এই নির্বাচন শওকত মোল্লা বা নওশাদ সিদ্দিকীর লড়াই নয়। এটি বাঙালির আত্মসম্মানের লড়াই। এই দলবদলকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমা ভট্টাচার্যের এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনে স্থানীয় সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং তৃণমূলের সংগঠন আরও মজবুত হতে পারে।

দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হল ভাঙড়। এবার এই কেন্দ্রে সরাসরি লড়াই হওয়ার কথা শওকত মোল্লা ও নওশাদ সিদ্দিকী। এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ভাঙড়। এবার ভোটের মুখে আরাবুল ইসলামের দল বদল করায় সেখানে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে নতুন মাত্রা দিলেন সীমা ভট্টাচার্য।

শওকতের তোপ!

অন্যদিকে, ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শওকত মোল্লা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে। কটাক্ষের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এইভাবে চলতে থাকলে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকলেও হয়তো নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হতে পারে।”

এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, সীমা ভট্টাচার্যের তৃণমূলে যোগদান এবং শওকত মোল্লার মন্তব্য—দুই মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন নজর, এর প্রভাব ভোটের ময়দানে কতটা পড়ে।