TMC Split: তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায় সহ ১৯ জন সাংসদ লোকসভায় আলাদা বসার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন। রাজ্যসভাতেও ইস্তফার হিড়িক। বাড়ছে এনডিএ-তে যোগদানের জল্পনা। 

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কোন্দল ক্রমশ বাড়ছে। দলের ঐক্য এবং সম্ভাব্য জোট নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। একের পর এক ইস্তফা এবং বিক্ষুব্ধদের পদক্ষেপে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তৃণমূল সাংসদদের সই-এর তালিকা

সূত্রের খবর, দলের ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ লোকসভা স্পিকারের দপ্তরে তাদের নাম জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের মতো সিনিয়র নেতারাও। এই তালিকায় আরও নাম রয়েছে—বাপী হালদার, ডঃ শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালী বাগ, মালা রায়, কালীপদ সোরেন, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিক।

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, ২০ জন সাংসদের একটি দল লোকসভায় আলাদা বসার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলের সংসদীয় গোষ্ঠীতে ভাঙন স্পষ্ট।

মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে উত্তেজনা বাড়ছে। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দলের পুরনো নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের ইস্তফার হিড়িক

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় ইস্তফা। এর আগে ১০ জুন রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব। তারও আগে, ৮ জুন সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায়।

ইস্তফা দেওয়ার পর প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের "মানুষের মতামতকে গ্রহণ করেছেন" এবং তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভাঙন পরিষদীয় দলেও

বুধবার, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের গোষ্ঠীর মিশে যাওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যা ঘটছে তা দলের একেবারে অভ্যন্তরীণ বিষয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার সম্প্রতি ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রথমে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন থাকলেও এখন তাঁদের শিবিরে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। তাঁরা শিগগিরই স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করবেন।

অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দেখা করার খবরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁরা কি এনডিএ-র দিকে ঝুঁকছেন? যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কোনো খবর নেই। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে দল ভাঙতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।