২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ইশেতেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ইশতেহার প্রকাশ করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-সহ অন্য বাম দলগুলির শীর্ষ নেতারা। ইশতেহারে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকেই মূল হাতিয়ার করেছে তারা। ইশতেহারে ২২টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ইশেতেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ইশতেহার প্রকাশ করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-সহ অন্য বাম দলগুলির শীর্ষ নেতারা। ইশতেহারে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকেই মূল হাতিয়ার করেছে তারা। ইশতেহারে ২২টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সব থেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বেকারদের কর্মসংস্থানে। বামেদের প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে পূরণ করা হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি উপার্জনহীন পরিবারে অন্তত একজনকে কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি, পিএসসি বা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ এবং প্রতি বছর নিয়মিত পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। যুব সমাজের জন্য ‘নেতাজী সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প’ চালুর কথা বলা হয়েছে। যেখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাসিক ২০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন তরুণরা। বেকারদের অন্তত ২টি চাকরির কল দেওয়া হবে। নারী সুরক্ষায় অভয়া বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় এলে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা হবে। যারা আয়কর দেন না, তাদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্ধেক দাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে কী কী প্রতিশ্রুতি

১। প্রতিটি পরিবারের জন্য অন্তত একটি স্থায়ী কাজ।

ক) প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে অন্তত ২টি চাকরির কল, খ) গরিব মানুষের জন্য শহরে বছরে ১২০ দিন, গ্রামে ২০০ দিন কাজ, ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি।

২। ৫ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ, আবারও বছর-বছর স্বচ্ছতার সঙ্গে এসএসসি, সিএসসি, পিএসসি।

৩। ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশে প্রথম স্থান পুনরুদ্ধার, নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পার্ক তৈরি, প্রতিটি জেলায় শিল্প তালুক।

৪। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৭০০ টাকা, ৪টি শ্রমকোড রাজ্যে প্রয়োগ নয়, সমকাজে সমমজুরি, কর্মরত নারী শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য ক্রেশ, তৃতীয় লিঙ্গ ও Queer শ্রমিকদের সমকাজে সমমজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মীর মর্যাদা৷

৫। ১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য করা হবে দেড় গুণ।

৬। শিক্ষায় রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ, স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব,স্বাস্থ্যে বাজেটের ১০ শতাংশ, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে সব শূন্যপদ পূরণ, প্রতি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ, আধুনিক হাসপাতাল।

৭। বন্ধ করা হবে প্রিপেইড ডায়নামিক স্মার্ট মিটার বসানো, যারা আয়করদাতা নন তাদের জন্য— ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে।

৮। মাইক্রো ফিনান্স সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।

৯। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কর্মসূচি, খাল, বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং নদী রক্ষায় কঠোর আইন।

১০। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন তদন্ত, বিচারের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন।

১১। নারী নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন: ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি, তামান্না, অভয়া-সহ সকল নির্যাতিতার ন্যায়বিচার, প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব কিন্তু ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী'।

১২। প্রবীণদের জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা” প্রকল্প, সব দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা।

১৩। সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় স্কুল-কলেজ-হোস্টেল তৈরিতে অগ্রাধিকার, বাড়ানো হবে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি ও সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্বাধীনতায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী প্রধান অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন বোর্ড, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সংস্কৃতির পূর্ণ মর্যাদা ও সুরক্ষা দান, আদিবাসীদের জমি ও বনাধিকার আইনি সুরক্ষায় নিশ্চিত করা। তফসিলি জাতি উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের অধিকার এবং মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হবে।