এনআরসি ও সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপিকেই নয়, তার পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তুলোধুনা করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা  সুজন চক্রবর্তী ৷ রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির প্রকাশ্য সমাবেশে মুখ্যবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি ৷ 

এদিন শিক্ষকদের সমস্যা নিয়ে রাজ্য় সরকারকে তুলোধনা করেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, দেশের মধ্যে সব থেকে কম সম্মান ও সাম্মানিক পান এই রাজ্যের শিক্ষকরা ৷ সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে একেবারে পিছনে ৷ তাই তাদের লড়াই করতে হচ্ছে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে ৷ অন্যদিকে, অনুচিত স্থানে বেতন বাড়িয়ে ইচ্ছে মতো শাসন করছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ যেখানে শিক্ষক,কৃষক ন্যায্য় সম্মান , সাম্মানিক, মূল্য পাচ্ছে না সেখানে তিনি উদ্বোধনের গল্প করে যাচ্ছেন ৷ পারলে সুলভ শৌচাগারের উদ্বোধনও করবেন মুখ্যমন্ত্রী ৷  

তবে শুধু মমতাকে আক্রমণ করে থেমে থাকেননি সুজনবাবু। বাম নেতার বাক্যবান থেকে রেয়াত পায়নি বিজেপিও। এদিন কেন্দ্রের বিজেপি নেতা-নেত্রীদের বিষয়ে তিনি বলেন,কেন্দ্রের সরকার আম্বানি আদানিদের ৷ সাধারণ মানুষের নয় ৷ এদের কারণে দেশের মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে সম্পদের পাহাড় ৷ এই সরকারই আবার বলছে, এতদিন বসবাসের পর আমাদের নাকি এদেশের নাগরিক কিনা প্রমাণ করতে হবে ৷ যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র দেখাতে পারেননি ,সেখানে আমরাও নিজেদের কাগজ দেখাতে যাবো না ৷ আমরা যদি বেনাগরিক হই তাহলে বেনাগরিকদের ভোটে জিতে গদি আঁকড়ে রয়েছেন কেন, সেটাও তো বেআইনি ৷ হিম্মত থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে গদি থেকে নেমে নাগরিকত্বের হিসেব কষে গদি জিতুন ৷ 

রাজ্য়ে নাগরিকত্ব আিনের প্রতিবাদে সম্প্রতি  অগ্নিগর্ভ হয়েছে রাজ্য। এদিন যা নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীকেও একহাত নিতে ছাড়েননি সুজনবাবু। তিনি  বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদের নাম করে ঘণ্টা বাজাচ্ছেন ৷ এটা যেন ছেলে খেলা ৷ আসলে এসব পুরোটাই নাটক ৷ ওনারা এখানে প্রতিবাদের নামে কা কা করছেন ৷ দিল্লিতে গিয়ে পায়ে ধরে বাবা বলছেন ৷