আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: রাতারাতি মেলার মাঠ কেন পাঁচিল  দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে? রীতিমতো ভাঙচুর চলল বিশ্বভারতী বিদ্যালয় চত্বরে। প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড শান্তিনিকেতনে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট তীব্র নিন্দা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সমিতির রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রবীণ আশ্রমিকরা। নিরাপত্তার কারণে আপাতত বন্ধ থাকবে বিশ্বভারতী বিদ্যালয়। 

আরও পড়ুন: পরীক্ষা না করিয়েই করোনা পজিটিভ চারজন, কাঠগড়ায় স্বাস্থ্য দপ্তর

খোলা মাঠে কি আর পৌষমেলা হবে না? বিশ্বভারতীর মেলার মাঠটি ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা পারদ চড়ছিল। রবিবার আবার কয়েকজন প্রাক্তনী বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীরা হেনস্তা করেন বলেও অভিযোগ। প্রতিবাদে সোমবার সকালে বোলপুর পোস্ট অফিস থেকে ধিক্কার মিছিলে পা মেলান হাজার দশেক মানুষ। মিছিলের প্রথমসারিতে ছিলেন দুবরাজপুরের বিধায়ক নরেশ বাউরি, বোলপুরের কাউন্সিলর শেখ ওমর-সহ আরও অনেকে। 

মিছিল যখন বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে কাছে পৌঁছয়, তখন পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নির্বিচারে শুরু হয়ে যায় ভাঙচুর। পাঁচিল নির্মাণের সামগ্রী, এমনকী ঠিকাদারের অস্থায়ী অফিসের চেয়ার-টেবিল-ফ্যান সবই ভেঙে দেন বিক্ষোভকারীরা। বাদ যায়নি মেলার মাঠের স্থানীয় বাতিস্তম্ভগুলিও। ঘটনাস্থলে আশেপাশে কিন্তু তখন কোনও পুলিশকর্মীকে দেখা যায়নি। এদিকে এই ঘটনার পরই জরুরি বৈঠকে বসে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানানো হবে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রকেও।

আরও পড়ুন: উত্তাল বঙ্গোপসাগরে উল্টে গেল ইলিশ ভর্তি ট্রলার, নিখোঁজ ৩ মৎস্যজীবী

বীরভূমের দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি বলেন, 'আমি বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন প্রকৃতির কোলে পড়াশোনা ও বিনোদন। কিন্তু একজন করে উপাচার্য আসছেন আর নিজেদের মতো করে বিশ্বভারতীকে সাজাতে গিয়ে রবীন্দ্র আদর্শকে বিসর্জন দিচ্ছেন। তাই আমরা ধিক্কার মিছিল বের করেছিলাম।'  কিন্তু ভাঙচুর চালাল কারা? সে বিষয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি তিনি।