রিষড়ার নির্যাতিতা সাঁতারুর ঘটনায় জড়িয়ে গেল রাজনীতির মোড়ক। নাবালিকা সাঁতারুকে দেখতে এসে মুখ্য়মন্ত্রীকে বিঁধলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এতদিনকোথায় ছিলেন প্রশ্ন লকেটের।

প্রথমে তৃণমূল ,আধঘণ্টা পর  বিজেপি । রবিবার রিষড়ার নির্যাতিতা সাাঁতারুকে দেখতে যাওয়া নিয়ে চড়ল রাজনীতির পারদ।  দুপুরে তৃণমূল জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব এবং রিষড়া  মিউনিসিপ্যালিটি র চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র সদলবলে যান রিষড়া দাসপাড়া নির্যাতিতা সাঁতারুর বাড়ি। তাঁরা বেরিয়ে যেতেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে সাঁতারুর বাড়ি আসেন বিজেপিরে মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। কথা বলেন পরিবারের সাথে। পরে বাইরে বেরিয়ে লকেট বলেন, 'একটা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে এরকম একটা নোংরা ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যেও রাজনীতি করছে তৃণমূল। বিজেপি চালিত রাজ্যে গোয়া যেখানে অভিযুক্ত কোচকে শাস্তি দিতে তৎপর হয়েছে, সেখানে কিছুই করেননি মুখ্যমন্ত্রী। আমার আসার খবর পেয়ে তৃণমূলের লোকজন এসেছে। এতদিন তাঁরা কোথায় ছিলেন। এলাকার সাংসদ বিধায়কও দেখতে আসেননি নি়র্যাতিতাকে।'

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি হুগলির বিজেপি সাংসদ। নির্যাতিতার প্রসঙ্গে মমতাকে একহাত নেন লকেট। তিনি বলেন,'একজন মহিলা মুখ্য়মন্ত্রী হয়ে বাচ্চা মেয়ের পাশে দাঁড়ালেন না। যদি সম্মানই চলে যায়, তাহলে কন্য়াশ্রী করে কি লাভ মুখ্যমন্ত্রীর।'

সম্প্রতি রিষড়ার নাবালিকা সাঁতারুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে কোচ সুরজিৎ গাঙ্গুলিকে। সাঁতার কোচের যৌন হেনস্থার ভিডিও প্রকাশ্য়ে আসতেই কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরণ রিজিজু। দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত কোচ সুরজিৎ গাঙ্গুলিকে। কদিন আগেই  নিজের ফেসবুক পেজে কোচের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করে সেই সাঁতারু। লুকোনো ক্যামেরায় সেই ছবি দেখে সারা দেশ। পরে রিষড়ার বাসিন্দা ১৫ বছরের ওই সাঁতারুর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। যদিও পুরো ঘটনাটা গোয়ায় হওয়ায় গোয়া পুলিশ আলাদা করে তদন্তে নামে। শেষে শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কোচ সুরজিৎ গাঙ্গুলিকে। এই বিষযে নর্থ গোয়া জেলার পুলিশ সুপার উৎকৃষ্ট প্রসূন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কোচের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্যাগ করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে দিল্লি পুলিশের সাহায্যে গ্রেফতার করা হয় তাকে।