সংক্ষিপ্ত
শনিবার যে চাল, ডাল ও আলু দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে চাল ও ডাল অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। পোকা ধরা, নোংরা ও অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাওয়া ডাল খাওয়ার জন্য দেওয়া হয় অভিভাবকদের।
খিদিরপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে পড়ুয়া ও তাদের মায়েদের দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের খিদিরপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে মাঝেমধ্যেই নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। শনিবার যে চাল, ডাল ও আলু দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে চাল ও ডাল অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। পোকা ধরা, নোংরা ও অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাওয়া ডাল খাওয়ার জন্য দেওয়া হয় অভিভাবকদের। বিষয়টি নজরে আসতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকাকে ঘেরাও করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
ক্ষুদ্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, এই প্রথম নয় মাঝেমধ্যে এমন নোংরা ও নিম্নমানের খাবার বাচ্চা ও তাদের মায়েদের দেওয়া হয়। সরকার যখন এই খাবার বাচ্চাদের পুষ্টি জোগাতে দেয় তখন এমন নিম্নমানের খাবার কেন দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, এই খাবার খেয়ে পুষ্টির পরিবর্তে বাচ্চাদের শরীর খারাপ হয়ে যাবে। এনিয়ে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, খিদিরপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দু'জন কর্মী রয়েছে। পড়ুয়া ও তাদের মা-দের নিয়ে প্রায় ৩৫ জন রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। আগে পড়ুয়াদের রান্না করা খাবার দেওয়া হত। বর্তমানে রান্না করা আর সম্ভব হয় না। তার পরিবর্তে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আর এবার নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন- ভয়াবহ ভাঙন গঙ্গায়, সবার চোখের সামনে তলিয়ে গেল শতাধিক বাড়ি
এবিষয়ে বিক্ষোভকারী উত্তম মহন্ত ও দোলন স্বর্ণকার মহন্ত জানান, মাঝে মধ্যেই তাঁদের নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। তাঁদের প্রশ্ন এই খাবারটা কি সরকার থেকে দেওয়া হয়? যদি সরকার থেকে দেওয়া হয় তাহলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে এমন খাবার যেন বিতরণ না করা হয়। কারণ এই খাবার বাচ্চাকে কোনও ভাবেই খাওয়ানো সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন- বাড়ি ভাঙচুরের পর তৃণমূল নেতার মাকে প্রাণে মারার হুমকি, অভিযোগ অস্বীকার বিজেপি নেতার
অন্যদিকে খিদিরপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা সোমা ভট্টাচার্য জানান, ডালটা খারাপ ছিল। সেটা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন তিনি। কারণ এর মধ্যে ডাল আর আসেনি। এর ফলে পুরোনো ডালই দিতে হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকার ফলে তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দুই তিন মাসের খাবার একবারে দিয়ে দেয়। যার ফলে প্রথমদিকে খাবার ভালো থাকলেও পরের দিকে চাল-ডাল নষ্ট হয়ে যায়। এতে তাঁদের কিছুই করার থাকে না।