Madhyamgram Fire: পর্দার নায়কদেরও যেন ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। মানুষকে বাঁচানোর অদম্য জেদের নেশায় ভুলে গিয়েছিলেন তাঁর নিজের কথা। গত বুধবার মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সিলিন্ডার ফেটে গুরুতর জখম সেই প্রীতম ঘোষ এখন নার্সিংহোমের বার্নিং ওয়ার্ডে জীবন-মৃত্য়ুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

Madhyamgram Fire: পর্দার নায়কদেরও যেন ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। মানুষকে বাঁচানোর অদম্য জেদের নেশায় ভুলে গিয়েছিলেন তাঁর নিজের কথা। গত বুধবার মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সিলিন্ডার ফেটে গুরুতর জখম সেই প্রীতম ঘোষ এখন নার্সিংহোমের বার্নিং ওয়ার্ডে জীবন-মৃত্য়ুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গোটা এলাকার মানুষ এখন তাঁর জন্য প্রার্থনায়। মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে আগুনের তীব্র তাপে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে যায়। তবুও সেই মুহূর্তে নিজের যন্ত্রণার কথা না ভেবে মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই এগিয়ে যান তিনি। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাস্থলটি প্রীতম ও তাঁর বন্ধুদের নিয়মিত আড্ডার জায়গা এবং যাতায়াতের পথ ছিল। পরিচিত মানুষদের এমন বিপদের মুখে দেখে তিনি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি। দু'নম্বর দেবীগড় মনসাগলির বাসিন্দাকে প্রীতম ঘোষকে এলাকায় বুড়ো দা বলে বেশি পরিচিত।

কীভাবে ছুটে গিয়েছিলেন প্রীতম

মধ্যমগ্রাম অগ্নিকাণ্ডে সাহসিকতার মুখ দেবীগড় এলাকার বাসিন্দা প্রীতম ঘোষ যা করেছেন তা শুনলে চমকে যেতে হয়। স্বার্থপরের দুনিয়ার বদনাম ঘুচিয়ে সেদিন আগুনের লেলিহান শিখার মাঝেও প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বুড়ো দা। একবারও ভাবেননি নিজের জীবনের কথা। গত বুধবার মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা আর আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রীতম। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান তিনি। কিন্তু হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তীব্রতায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং সেই বিস্ফোরণের ধাক্কাতেই বড় বিপদের মুখে পড়েন প্রীতম।

কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

নার্সিংহোমের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি প্রীতমের সাহসিকতার কাহিনি বললেন কয়েকজন প্রত্য়ক্ষদর্শীই। একজন বললেন, সেদিন মধ্যমগ্রামে মানুষের আর্তনাদ শুনে আর কোনও কথা ভাবেনি প্রীতম। ওর চেষ্টা ছিল সবাইকে বাঁচাতে হবে। কিন্তু আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছিল। তবু সেসব পরোয়া না করে আগুন নেভার মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে। একজন বললেন, মধ্যমগ্রামে সেদিন বহু মানুষ নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি করছিলেন। কিন্তু নিজের কথা ভাবেনি ও। আগুনের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করে মানুষকে বাঁচানোর সব চেষ্টা করে গিয়েছিল প্রীতম। ডাক্তাররা আশ্বাস দিচ্ছেন, সাহসী প্রীতম জীবনে ফেরর লড়াইটা ভালই চালাচ্ছে। ও দ্রুত সেরে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার মধ্যমগ্রাম রেলস্টেশনের কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেখানকার রেস্তোরাঁর এক কর্মী ৭০ বছরের বৃদ্ধ দিলীপ শীল অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল। তবে তার মধ্যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়।