লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙনের খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনায় লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাতছাড়া হয়েছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরর।

বিদ্রোহী সাংসদদের নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দোস্তিদার এবং শতাব্দী রায়। তাঁদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে তাঁরা ভবিষ্যতে এনডিএ-র সঙ্গে পথ চলতে আগ্রহী। এ বিষয়ে তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-কে চিঠিও পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের বাধা নেই?
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে আলাদা অবস্থান নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদের সমর্থন রয়েছে। ফলে আইনি জটিলতা এড়ানোর পথ তাঁদের সামনে খোলা থাকতে পারে।
দিল্লিতে বৈঠকের মাঝেই ধাক্কা
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনাটি ঘটেছে এমন সময়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকঅভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধি, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা।
ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙনের খবর সামনে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
চিফ হুইপ পদ নিয়ে বিতর্ক
বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে স্পিকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের স্বাক্ষরে। যদিও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তাঁর পরিবর্তে কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি দলের একাংশের।
তবে অধিবেশন না চলার কারণে সেই পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের দফতরে নথিভুক্ত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে নিজের সাংসদীয় পদমর্যাদা ব্যবহার করেই কাকলি এই পদক্ষেপ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সূত্রের খবর, স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর আগে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দর ইয়াদভ-এর বাসভবনে বৈঠক করেন। সেখানে একাধিক তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতির খবর মিলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যদি বিদ্রোহী সাংসদরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হন, তবে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
