Kaliachak hostage incident : মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের বন্দি করে রাখার ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনে পড়ল NIA-এর তদন্ত। এদিনও তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্রের খবর রবিবারই তারা মালদার কাজ সেরে কলকাতায় ফিরতে পারেন। 

মালদাকাণ্ডে প্রাথমিক তদন্ত শেষ

রবিবারও মালদার কালিয়াচক বন্দি কাণ্ডে তদন্ত করেছেন এনআইএ আধিকারিকরা রবিবারও কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক এলাকায় দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো হয়। NIA সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্ত পর্ব শেষ করে আজই কলকাতায় ফিরতে পারে তদন্তকারী দল। আগামিকালই তারা প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে শেষ মুহূর্তে তদন্তে আরও গতি আনা হয়েছে।

আক্রান্ত বিচারককে জিজ্ঞাসাবাদ

ইতিমধ্যেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ টিম বুধবার গভীর রাতে কলকাতার বালিগঞ্জে আক্রান্ত এক বিচারকের বাড়িতেও পৌঁছয়। সেখানে বিচারকের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে ঘটনার আগে ও পরে কী কী ঘটেছিল, কতজনের জমায়েত ছিল এবং পাইলট গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় কোথায় কোথায় তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পাশাপাশি, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে আগাম কতটা জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না। সেই দিকগুলিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে রবিবার সকালেই কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক দপ্তরে তলব করা হয় মালদা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্র সরকারকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই তলব বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনের বেশি মানুষকে ডেকে পাঠিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে NIA। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে, যা প্রাথমিক রিপোর্টে বড় ভূমিকা নেবে।

মালদার হিংসাত্মক ঘটনা

ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়ার অধীনে) কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনার জেরে দিনভর মালদহ কার্যত স্তব্ধ ছিল। জেলার অন্তত পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশাপাশি গ্রামের রাস্তাও অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।

হিংসা, অগ্নিসংযোগ এবং সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে (যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা) আট ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত ১৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে শাহজাহান আলি-সহ ১৮ জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ১৯ তম অভিযুক্ত মোফাক্কারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ CID। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে ধরা হয়।