মালদার কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনাকে মহাজঙ্গলরাজ বলে অভিহিত করেছেন। এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, যেখানে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত নয়, সেখানে ন্যায় আশা করা যায় না। 

মালদার কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনাকে মহাজঙ্গলরাজ বলে অভিহিত করেছেন। এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, যেখানে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত নয়, সেখানে ন্যায় আশা করা যায় না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দানে বিজেপির বিজয় সংকল্প সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি নানা ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুতে সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখে একাংশ। গভীর রাতে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার সময় বিচারকদের কনভয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তিনি বলেন, "মালদায় বিচারকদের বন্দি করে রেখেছিল। ভাবুন কেমন সরকার, কেমন ব্যবস্থা। এখানে সংবিধানিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত নয়। এদের থেকে ন্যায় আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজের উদাহরণ। সরকার বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে। তৃণমূল সংবিধানিক সংস্থার গলা টিপে দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টকে বলতে হচ্ছে। তৃণমূল বাংলায় আইনের শাসনের জানাজা বের করছে।"

ভাষণে দুর্নীতি নিয়ে মোদী সরাসরি নিশানা করে বলেন, “তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার। ভোটের পর এদের সব পাপের হিসাব হবে, বেছে বেছে হিসাব করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি এই অনুপ্রবেশকারীদের আটকাবে। বাংলা থেকে ভয়ে পালাবে তৃণমূল। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি-কাটমানিতে মানুষ বিরক্ত।”

আলু চাষিদের আলুর দাম না পাওয়া নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,"কৃষকরা রোজ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেন। আলুর রেকর্ড উৎপাদন করেন। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় তাঁরা দাম পান না। কারণ TMC সরকার আপনাদের কথা ভাবে না। এখানে কোল্ড স্টোরেজ নেই। আলু কিনে নেওয়ারও ব্যবস্থা নেই। তাই ফসল নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকদের লোকসান হয়। তৃণমূল SIR-এর বিরোধিতা করছে, যাতে এখানে অনুপ্রবেশকারীরা ধরা না পড়ে। অন্যদিকে সিএএ-এর বিরোধিতা করে যাতে হিন্দুরা আশ্রয় না পান আর এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা নাগরিকত্ব পান। এই জনসভার পর তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সিন্ডিকেট’ এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, ভোটের দিন মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হবে; তবে জনগণের উচিত আইনের ওপর আস্থা রাখা। তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) "অপকর্মের" পূর্ণ হিসাব নেওয়া হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত বড় পদাধিকারীই হোন না কেন। তিনি বলেন যে, বাংলায় গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হচ্ছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান জানানো হচ্ছে না। নারী ও উন্নয়নের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বাংলা হল শক্তির আরাধনার পুণ্যভূমি। আর বিজেপি নারীদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার নারীদের কাছে মৌলিক পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়েছে।