Mamata Banerjee Alleges BJP: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ আনলেন। তাঁর দাবি, ভোট বাতিল করে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। মালদহের ঘটনাকেও এই চক্রান্তের অংশ বলে তিনি মনে করছেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে , ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চক্রান্ত করছে। মালদার ঘটনা গেরুয়া শিবিরের চক্রান্তের একটি অংশ বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মালদার ঘটনা বিজেপির চক্রান্ত
সাগরদিঘিতে এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মমতা দাবি করেন, বুধবার মালদা সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীদের পণবন্দি করার ঘটনার পিছনেও বিজেপির হাত রয়েছে। তিনি বলেন, "প্রশাসন এখন আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। ওরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ মতো কাজ করছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, এসপি, ডিএম, এডিএম, বিডিও, আইসি-সহ অনেককেই বদলে দেওয়া হয়েছে।"
নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি!
মমতা আরও অভিযোগ করেন যে বিজেপি "নির্বাচন বাতিল করে জোর করে বাংলা দখল করার" পরিকল্পনা করছে।
তাঁর কথায়, "আপনারা (বিজেপি) নানাভাবে মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আসল পরিকল্পনা হল নির্বাচনটাই বাতিল করে দেওয়া। যদি তা হয়, তাহলে কারও আর ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে না। ওরা জোর করে বাংলা দখল করবে। নির্বাচন কমিশন আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সাহায্যে একটা 'সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন' জারি করেছে।"
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মালদহের ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কাছে আগে থেকে কোনও খবর ছিল না। তিনি একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমান মুখ্যসচিব তাঁর সঙ্গে একবারও যোগাযোগ করেননি।
মমতা যোগ করেন, "মালদহে কাল কী হয়েছে, আমি জানি না। আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। বর্তমান মুখ্যসচিব আমাকে একবারও ফোন করেননি। আমি একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে জানতে পারি যে বিচারপতিদের ঘেরাও করা হয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মানুষ বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে।"
মালদার ঘটনা
বুধবার মালদহ জেলায় তিন মহিলা-সহ সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীরা পণবন্দি করে রাখায় পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে।
চলমান 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) প্রক্রিয়ার অধীনে ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাটি ছিল দিনভর মালদহকে অচল করে দেওয়া এক বৃহত্তর বিক্ষোভের অংশ। অন্তত পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আজ মালদহের ঘটনাটিকে "বিচারব্যবস্থায় বাধা দেওয়ার নির্লজ্জ ও ইচ্ছাকৃত চেষ্টা" বলে বর্ণনা করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আধিকারিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার বা জল ছাড়াই আটকে ছিলেন।
আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের ডিরেক্টর-জেনারেল সহ শীর্ষ আধিকারিকদের শো-কজ নোটিশ জারি করে তাঁদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়েছে। আদালত নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা এবং SIR প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী তলব ও মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে।
বেঞ্চ সমস্ত অনুষ্ঠানস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, আধিকারিক ও তাঁদের পরিবারের উপর বিপদের আশঙ্কার অবিলম্বে মূল্যায়ন এবং কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে শীর্ষ আধিকারিকদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।


